ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

হোসেনী দালান: ঢাকার বুকে শিয়া ঐতিহ্যের চারশ বছরের সাক্ষী

ইমামবাড়া বা হোসেনী দালান মূলত শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সমাবেশ এবং কারবালার শোকাবহ স্মৃতি স্মরণের এক পবিত্র স্থান। ‘ইমামবাড়া’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ইমামের বাসভবন হলেও, এটি মূলত মহররম মাসে আশুরার শোক পালন, ধর্মীয় মজলিস এবং তাজিয়া মিছিলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঐতিহাসিক বিবর্তনে এই স্থাপত্যশৈলী ইরান ও ইরাকে ‘হোসেনিয়া’ বা ‘তাকিয়া’ নামে পরিচিত হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে এটি ইমামবাড়া বা আশুরাখানা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। দশম শতকের শেষভাগে বাগদাদ ও কায়রোর মতো প্রাচীন শহরগুলোতে মসজিদের বর্ধিত অংশ হিসেবে হোসেনিয়া ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়েছিল।

ঢাকার ঐতিহাসিক গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে ১৯২৩ সালে হাকিম আহসান জাহাঙ্গীরনগরী লিখেছিলেন যে, দক্ষিণাত্য বাদ দিলে হিন্দুস্তানে ঢাকার হোসেনী দালানই প্রাচীনতম এবং অনন্য এক গৌরবময় স্থাপত্য। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৬৪২ সালে মোগল সুবাহদার শাহ সুজার শাসনামলে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক মীর মুরাদ এই স্থাপনাটি নির্মাণ করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, মীর মুরাদ স্বপ্নে ইমাম হোসেন (রা.)-কে দেখেন এবং তাঁর নির্দেশে বখশীবাজার এলাকায় এই মর্সিয়া গৃহটি নির্মাণ করেন।

তবে হোসেনী দালানের প্রকৃত নির্মাণকাল নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। বর্তমান ভবনটি কয়েক দফায় সংস্কার করার ফলে এর আদি স্থাপত্যশৈলী অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। শিলালিপিতে ১৬৪২ সালের কথা উল্লেখ থাকলেও কোনো কোনো গবেষক মীর মুরাদের মৃত্যু ও সময়ের ব্যবধান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে প্রখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া শিলালিপিটি পরীক্ষা করে সেটিকে নির্ভরযোগ্য বলে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, মীর মুরাদ নামের একাধিক ব্যক্তির অস্তিত্ব বা তথ্যের বিভ্রান্তি থাকলেও হোসেনী দালানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জরাজীর্ণ সড়ক সংস্কারে চসিকের অগ্রাধিকার: দুর্ভোগ লাঘবে মেয়রের কঠোর বার্তা

হোসেনী দালান: ঢাকার বুকে শিয়া ঐতিহ্যের চারশ বছরের সাক্ষী

আপডেট সময় : ০৩:৫০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ইমামবাড়া বা হোসেনী দালান মূলত শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সমাবেশ এবং কারবালার শোকাবহ স্মৃতি স্মরণের এক পবিত্র স্থান। ‘ইমামবাড়া’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ইমামের বাসভবন হলেও, এটি মূলত মহররম মাসে আশুরার শোক পালন, ধর্মীয় মজলিস এবং তাজিয়া মিছিলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঐতিহাসিক বিবর্তনে এই স্থাপত্যশৈলী ইরান ও ইরাকে ‘হোসেনিয়া’ বা ‘তাকিয়া’ নামে পরিচিত হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে এটি ইমামবাড়া বা আশুরাখানা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। দশম শতকের শেষভাগে বাগদাদ ও কায়রোর মতো প্রাচীন শহরগুলোতে মসজিদের বর্ধিত অংশ হিসেবে হোসেনিয়া ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়েছিল।

ঢাকার ঐতিহাসিক গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে ১৯২৩ সালে হাকিম আহসান জাহাঙ্গীরনগরী লিখেছিলেন যে, দক্ষিণাত্য বাদ দিলে হিন্দুস্তানে ঢাকার হোসেনী দালানই প্রাচীনতম এবং অনন্য এক গৌরবময় স্থাপত্য। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৬৪২ সালে মোগল সুবাহদার শাহ সুজার শাসনামলে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক মীর মুরাদ এই স্থাপনাটি নির্মাণ করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, মীর মুরাদ স্বপ্নে ইমাম হোসেন (রা.)-কে দেখেন এবং তাঁর নির্দেশে বখশীবাজার এলাকায় এই মর্সিয়া গৃহটি নির্মাণ করেন।

তবে হোসেনী দালানের প্রকৃত নির্মাণকাল নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। বর্তমান ভবনটি কয়েক দফায় সংস্কার করার ফলে এর আদি স্থাপত্যশৈলী অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। শিলালিপিতে ১৬৪২ সালের কথা উল্লেখ থাকলেও কোনো কোনো গবেষক মীর মুরাদের মৃত্যু ও সময়ের ব্যবধান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে প্রখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া শিলালিপিটি পরীক্ষা করে সেটিকে নির্ভরযোগ্য বলে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, মীর মুরাদ নামের একাধিক ব্যক্তির অস্তিত্ব বা তথ্যের বিভ্রান্তি থাকলেও হোসেনী দালানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য।