ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার চাইলেন নাহিদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে সেনাবাহিনীকে কলঙ্কমুক্ত করতে হলে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনতেই হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম আরও আশা প্রকাশ করেন যে সেনা নেতৃত্ব এই বিষয়ে সরকার ও ট্রাইব্যুনালকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তাঁর মতে, এটি কোনোভাবেই প্রাতিষ্ঠানিক ইগো বা মর্যাদার প্রশ্ন নয়, বরং এটি রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।

তিনি লিখেছেন, সেনাবাহিনীর যে সদস্যরা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাই তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি মনে করেন, সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। একই সাথে, ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে জুলাই–আগস্টের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর সাহসী সদস্যরা, বিশেষত তরুণ অফিসার ও সৈনিকরা, জনগণের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন দেশ গঠন, সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী এখনও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই পথচলায় সংস্কার ও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এর বাইরে নয়।

নাহিদ ইসলাম জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকেই দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর প্রভাব সেনাবাহিনীতেও পড়েছিল। সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা, বিশেষত যারা র‍্যাব বা ডিজিএফআই-এ দায়িত্বে ছিলেন, তারা গুম, খুন ও ক্রসফায়ারসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছেন। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও নিরস্ত্র জনগণের ওপর গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটেছে।

এনসিপি-এর এই আহ্বায়ক আরও লিখেছেন, এই ভয়াবহ বাস্তবতার মূল কারণ হলো গণতন্ত্রের দীর্ঘ ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক দলীয়করণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি। গণঅভ্যুত্থানের পর এখন আমাদের সামনে এক ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলঙ্কমুক্ত করা, পুনর্গঠন করা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধ করার। এটি করতে পারলেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপন সম্ভব হবে।

সাবেক এই উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, তিনি চান না যে বিচারব্যবস্থা ও সেনাবাহিনী কোনোভাবেই মুখোমুখি অবস্থানে আসুক। তাঁর মতে, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীগুলো চায় সংঘাত ঘটুক, যাতে দেশ অস্থিতিশীল হয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষা হয়। তিনি রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ যেমন চান না, তেমনি সেনাবাহিনীসহ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বা হস্তক্ষেপও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ দেখতে চান। তাঁর বিশ্বাস, দেশপ্রেম, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হওয়া উচিত।

তিনি উপসংহারে লেখেন, তাঁরা ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের স্থিতিশীলতা ও ঐক্য রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থিতিশীলতা বজায় রেখেই তাঁরা সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের পথে এগোচ্ছেন। তিনি স্বীকার করেন যে তাঁদের সব প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি, কিন্তু গণতান্ত্রিক সংস্কারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটেছে। এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার অর্জন এবং দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরাকান আর্মির প্রধানের অভিনন্দন, নতুন বন্ধুত্বের বার্তা

মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার চাইলেন নাহিদ

আপডেট সময় : ১১:২৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে সেনাবাহিনীকে কলঙ্কমুক্ত করতে হলে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনতেই হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম আরও আশা প্রকাশ করেন যে সেনা নেতৃত্ব এই বিষয়ে সরকার ও ট্রাইব্যুনালকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তাঁর মতে, এটি কোনোভাবেই প্রাতিষ্ঠানিক ইগো বা মর্যাদার প্রশ্ন নয়, বরং এটি রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।

তিনি লিখেছেন, সেনাবাহিনীর যে সদস্যরা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাই তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি মনে করেন, সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। একই সাথে, ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে জুলাই–আগস্টের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর সাহসী সদস্যরা, বিশেষত তরুণ অফিসার ও সৈনিকরা, জনগণের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন দেশ গঠন, সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী এখনও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই পথচলায় সংস্কার ও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এর বাইরে নয়।

নাহিদ ইসলাম জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকেই দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর প্রভাব সেনাবাহিনীতেও পড়েছিল। সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা, বিশেষত যারা র‍্যাব বা ডিজিএফআই-এ দায়িত্বে ছিলেন, তারা গুম, খুন ও ক্রসফায়ারসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছেন। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও নিরস্ত্র জনগণের ওপর গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটেছে।

এনসিপি-এর এই আহ্বায়ক আরও লিখেছেন, এই ভয়াবহ বাস্তবতার মূল কারণ হলো গণতন্ত্রের দীর্ঘ ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক দলীয়করণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি। গণঅভ্যুত্থানের পর এখন আমাদের সামনে এক ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলঙ্কমুক্ত করা, পুনর্গঠন করা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধ করার। এটি করতে পারলেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপন সম্ভব হবে।

সাবেক এই উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, তিনি চান না যে বিচারব্যবস্থা ও সেনাবাহিনী কোনোভাবেই মুখোমুখি অবস্থানে আসুক। তাঁর মতে, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীগুলো চায় সংঘাত ঘটুক, যাতে দেশ অস্থিতিশীল হয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষা হয়। তিনি রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ যেমন চান না, তেমনি সেনাবাহিনীসহ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বা হস্তক্ষেপও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ দেখতে চান। তাঁর বিশ্বাস, দেশপ্রেম, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হওয়া উচিত।

তিনি উপসংহারে লেখেন, তাঁরা ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের স্থিতিশীলতা ও ঐক্য রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থিতিশীলতা বজায় রেখেই তাঁরা সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের পথে এগোচ্ছেন। তিনি স্বীকার করেন যে তাঁদের সব প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি, কিন্তু গণতান্ত্রিক সংস্কারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটেছে। এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার অর্জন এবং দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করা।