মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করার জন্য নয়াদিল্লির বিশেষ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) আদালত থেকে আরো ৪৫ দিন সময় পেয়েছে। এই অভিযুক্তরা বাংলাদেশের আলোচিত জুলাইযোদ্ধা ও রাজনৈতিক কর্মী শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত বলে জানা গেছে।
গত ১৬ জুন, অবকাশকালীন বিচারক সৌরভ প্রতাপ সিং এনআইএ’র আবেদন এবং যুক্তিতর্ক বিবেচনা করে এই মামলার তদন্ত শেষ করার জন্য ৯০ দিনের পরিবর্তে ১৩৫ দিন সময় মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে, ১৯ জুন অন্য এক অবকাশকালীন বিচারক মীনু কৌশিক এই মামলার তিন মূল অভিযুক্ত, রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ, আলমগীর হোসেন এবং ফিলিপ সাংমাকে তিনদিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে, এনআইএ তাদের জেল থেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
তদন্তের সময়সীমা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে এনআইএ আদালতকে জানিয়েছে যে, তারা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) কাছ থেকে এই মামলা সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নতুন রেকর্ড পেয়েছে, যা বর্তমানে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এছাড়াও, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গত ৮ জুন সংস্থাটি আরও কিছু নতুন নথিপত্র হাতে পেয়েছে। এই নতুন তথ্য ও রেকর্ড যাচাই এবং অভিযুক্তদের মুখোমুখি বসিয়ে ক্রস-চেক করার জন্য তদন্তকারী সংস্থার আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে তারা আদালতকে অবহিত করেছে।
অভিযুক্তদের আইনজীবী শশাঙ্ক রাই আদালতে এই অতিরিক্ত হেফাজতের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করলেও, আদালত এনআইএ-এর যুক্তিকেই প্রাধান্য দিয়েছে। এর আগে এনআইএ অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে ২১ দিন এবং ফিলিপ সাংমাকে সাতদিন নিজেদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাজপথে অটোরিকশায় যাওয়ার সময় দুই আততায়ীর গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন ওসমান হাদি। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রতিবাদী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে ব্যাপক উত্তেজনা ও দাঙ্গার সৃষ্টি হয়। পুলিশ এই খুনের ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে চার্জশিটও জমা দিয়েছে। তদন্তে জানা যায়, খুনের পর অভিযুক্তরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে এসেছিল।
রিপোর্টারের নাম 




















