দেশের উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই চারটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এছাড়াও, নেত্রকোনার কামলাকান্দা, সিলেটের কানাইঘাট, ফেঞ্জুগঞ্জ এবং বাগেরহাটের মোংলায়ও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি বেড়ে উত্তরের চারটি জেলায় সাময়িকভাবে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এবং এই অবস্থা আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে উল্লিখিত জেলাগুলোতে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন স্থায়ী স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
সতর্ক বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতলের তুলনায় বেড়েছে এবং আগামী তিন দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই নদীগুলোর পানি নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার কিছু অংশে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও চলমান বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, রংপুর, সিলেট ও খুলনা বিভাগসহ ভারতের উজানে অরুণাচল প্রদেশে অতি ভারি বৃষ্টি হয়েছে, যা নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। আগামী পাঁচ দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে, যদিও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন তা অপরিবর্তিত থাকতে পারে, এরপর সামান্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ছে এবং আগামী তিন দিনে তা সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে, যা সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা বা প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি করবে।
রিপোর্টারের নাম 
























