ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

শিক্ষক কর্তৃক মাদরাসা ছাত্রী উধাও: থানায় অভিযোগ দায়ের

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দ্বিতীয়বারের মতো এক মাদরাসা ছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গোপালনগর মহিলা আলিম মাদরাসার নবম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী আকাশী (ছদ্মনাম) নামের ওই ছাত্রীকে একই মাদরাসার নূরানি বিভাগের শিক্ষক আলমগীর হোসেন প্রেমের প্রস্তাবসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আকাশীর মা বাদী হয়ে শনিবার শিক্ষক আলমগীর হোসেন এবং তার তিন সহযোগীর নাম উল্লেখ করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষক আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে আকাশীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি আকাশী তার মাকে জানালে তিনি মাদরাসার অন্য দুই শিক্ষকের কাছে বিচার চেয়েছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে মাদরাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আকাশী আর বাড়ি ফেরেনি। পরে জানা যায়, শিক্ষক আলমগীর হোসেন মাদরাসার সামনে থেকে আকাশীকে জোরপূর্বক একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে শিক্ষক ও ছাত্রী দুজনেরই কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগেও শিক্ষক আলমগীর হোসেন একবার আকাশীকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন কৌশলে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষক আলমগীর হোসেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর এক পরিচিত বোনকে একটি ভিডিও পাঠান, যেখানে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন যে তিনি মেয়েটিকে নিচ্ছেন না, শুধু কিছুক্ষণ কথা বলতে চান।

এ বিষয়ে শিক্ষক আলমগীর হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ আলম বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন, তবে এর আগে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা তা তিনি জানেন না। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেছেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার চোখের জল: এক কৃষকের জীবনের যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি

শিক্ষক কর্তৃক মাদরাসা ছাত্রী উধাও: থানায় অভিযোগ দায়ের

আপডেট সময় : ১০:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দ্বিতীয়বারের মতো এক মাদরাসা ছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গোপালনগর মহিলা আলিম মাদরাসার নবম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী আকাশী (ছদ্মনাম) নামের ওই ছাত্রীকে একই মাদরাসার নূরানি বিভাগের শিক্ষক আলমগীর হোসেন প্রেমের প্রস্তাবসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আকাশীর মা বাদী হয়ে শনিবার শিক্ষক আলমগীর হোসেন এবং তার তিন সহযোগীর নাম উল্লেখ করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষক আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে আকাশীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি আকাশী তার মাকে জানালে তিনি মাদরাসার অন্য দুই শিক্ষকের কাছে বিচার চেয়েছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে মাদরাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আকাশী আর বাড়ি ফেরেনি। পরে জানা যায়, শিক্ষক আলমগীর হোসেন মাদরাসার সামনে থেকে আকাশীকে জোরপূর্বক একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে শিক্ষক ও ছাত্রী দুজনেরই কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগেও শিক্ষক আলমগীর হোসেন একবার আকাশীকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন কৌশলে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষক আলমগীর হোসেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর এক পরিচিত বোনকে একটি ভিডিও পাঠান, যেখানে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন যে তিনি মেয়েটিকে নিচ্ছেন না, শুধু কিছুক্ষণ কথা বলতে চান।

এ বিষয়ে শিক্ষক আলমগীর হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ আলম বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন, তবে এর আগে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা তা তিনি জানেন না। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেছেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।