বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নতুন অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, জবাবদিহিতার অভাব এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দেশের পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় নতুন বাজেট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। মেগা প্রজেক্টের নামে পরিবেশ ধ্বংস বন্ধ করে সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এই দাবি জানান। বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপার সদস্য ফারহান হোসেন জয়। তিনি বলেন, “বাজেট থেকে একটি সরকারের রাষ্ট্র গঠনের সদিচ্ছা প্রতিফলিত হয়। এই সরকারের আগের আমলেই পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং বেবি ট্যাক্সিকে সিএনজি চালিত গাড়িতে রূপান্তরের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাই আশা করি, এবারও নাগরিক ও পরিবেশের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তবে বরাদ্দের অপব্যবহার নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন। ফারহান হোসেন জয় বলেন, “যে রাজনৈতিক দল বালু উত্তোলনকে উৎসাহিত করে, সেই দলের সরকার নদীর ড্রেজিংয়ের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করলে তা জনগণের কাছে দ্বিমুখী আচরণ মনে হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও, কঠোর জবাবদিহিতা ছাড়া এই অর্থ কেবলই শুভঙ্করের ফাঁকি।”
সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, “পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয় না, বরং তা অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া হয়। বাজেট সবসময় আকর্ষণীয় হলেও পরে তা অপচয় ও লোপাটের শিকার হয়। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নিম্নমানের কয়লা আমদানি বন্ধে সরকারের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, গতানুগতিক আমলাতান্ত্রিক বাজেট পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বছরের শেষদিকে এসে বাজেটের টাকা খরচের যে মহোৎসব দেখা যায়, তাতে দুর্নীতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। তাই বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ দুর্নীতিমুক্তভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে খরচ করতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















