সম্প্রতি সংসদে বিএনপির একজন সংসদ সদস্যের করা মন্তব্যের পর জামায়াতের নারী সদস্যদের হিজাব-নেকাব নিয়ে দেশজুড়ে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। এই বিতর্ক শুধু রাজনৈতিক সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের রূপ নিয়েছে, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বুদ্ধিজীবী ফাহাম আব্দুস সালামের একটি পূর্বের পরামর্শ ছিল, বিএনপির উচিত নয় জামায়াতের সঙ্গে ধর্মীয় বিতর্কে জড়ানো, কারণ রাজনৈতিক বিতর্কে জয়-পরাজয় থাকলেও ধর্মীয় প্রতিযোগিতায় তারা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে না। এই বিতর্কের সূত্র ধরে ফাহাম আব্দুস সালাম নিজেও নেকাব বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেছেন।
তার যুক্তি অনুযায়ী, নেকাব মানুষের স্বাভাবিক সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। মানুষ কেবল কণ্ঠস্বর নয়, বরং মুখের অভিব্যক্তি, চেহারা এবং দৃশ্যমান সংকেতের মাধ্যমেও একে অপরকে চেনে ও মূল্যায়ন করে। তিনি আরও মনে করেন, সংসদ সদস্যের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির পরিচয় জনগণের কাছে দৃশ্যমান হওয়া উচিত।
ফাহাম আব্দুস সালাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, যারা নেকাব পরিধান করেন, তারা এক ধরনের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বা নির্জনতা অনুশীলন করতে চান। এই নির্জনতা যদি তাদের পছন্দ হয়, তবে সমাজের পক্ষ থেকে তাদের সেই নির্জনতা বা গোপনীয়তাকে সম্মান জানানো হলে তাদের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তিনি আরও পর্যবেক্ষণ করেন, নেকাব পরিধানকারীরা কর্মক্ষেত্রে প্রায় সব সুযোগ প্রত্যাশা করেন, যদিও অনেক ক্ষেত্রে নেকাব অন্যের অস্বস্তির কারণ হতে পারে, যেমন ভাইভার মতো পরিস্থিতিতে। তার মতে, নেকাব পরিধানের অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি অন্যের অস্বস্তি বা যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার অধিকারও থাকতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 





















