ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

আল-আকসা মসজিদ: জর্ডানের তত্ত্বাবধান নিয়ে ইসরাইলের আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদের তত্ত্বাবধানের ঐতিহাসিক ও আইনগত দায়িত্ব জর্ডানের রাজপরিবারের উপর ন্যস্ত। বর্তমান শাসক বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এই দায়িত্ব পালন করছেন, যিনি রাসুল (সা.)-এর হাশেমী বংশধারার সঙ্গে যুক্ত। তবে, ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই পবিত্র স্থানের ওপর ইহুদি রাষ্ট্রের কুদৃষ্টি পড়েছে। বিশেষ করে, গত পঁচিশ বছর ধরে ইসরাইলের কট্টরপন্থী নেতারা আল-আকসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য আগ্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরাইলের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এরিয়েল শ্যারনের নেতৃত্বে হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্যের আল-আকসা কমপ্লেক্সে অভিযান দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা গণঅভ্যুত্থানের সূত্রপাত ঘটায়। এই ঘটনাটি ইসরাইলের আল-আকসা কমপ্লেক্স দখলের ধীরগতির অপচেষ্টার একটি অংশ ছিল। শ্যারনের এই পদক্ষেপের পর থেকেই ইসরাইল আল-আকসা কমপ্লেক্সের ওপর জর্ডানের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ খর্ব করে চলেছে। সম্প্রতি ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী কমপ্লেক্সের সর্বত্র বিচরণ করেছে এবং চত্বরের কেন্দ্রে একটি পুলিশ স্টেশনও স্থাপন করেছে। মসজিদের কর্মীরা ইসরাইলি সেনাদের অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ করতে পারছেন না। চত্বরটির দেয়ালগুলো বুলেটের আঘাতে জর্জরিত, যা মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর গুলি চালানোর প্রমাণ বহন করে।

সম্প্রতি ‘মিডল ইস্ট আই’য়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আল-আকসার তত্ত্বাবধানের ঐতিহাসিক দায়িত্ব থেকে জর্ডানের রাজপরিবারকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র করছে। যদিও একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও এই খবর আল-আকসার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা সমর্থিত দীর্ঘস্থায়ী স্থিতাবস্থা লঙ্ঘন করে ইসরাইলের এই হস্তক্ষেপ শুধু জঘন্যই নয়, সম্পূর্ণ অবৈধও।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এভারেস্ট জয়ী নুরুননাহার নিম্নিকে পূবালী ব্যাংকের সংবর্ধনা

আল-আকসা মসজিদ: জর্ডানের তত্ত্বাবধান নিয়ে ইসরাইলের আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১১:৫১:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদের তত্ত্বাবধানের ঐতিহাসিক ও আইনগত দায়িত্ব জর্ডানের রাজপরিবারের উপর ন্যস্ত। বর্তমান শাসক বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এই দায়িত্ব পালন করছেন, যিনি রাসুল (সা.)-এর হাশেমী বংশধারার সঙ্গে যুক্ত। তবে, ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই পবিত্র স্থানের ওপর ইহুদি রাষ্ট্রের কুদৃষ্টি পড়েছে। বিশেষ করে, গত পঁচিশ বছর ধরে ইসরাইলের কট্টরপন্থী নেতারা আল-আকসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য আগ্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরাইলের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এরিয়েল শ্যারনের নেতৃত্বে হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্যের আল-আকসা কমপ্লেক্সে অভিযান দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা গণঅভ্যুত্থানের সূত্রপাত ঘটায়। এই ঘটনাটি ইসরাইলের আল-আকসা কমপ্লেক্স দখলের ধীরগতির অপচেষ্টার একটি অংশ ছিল। শ্যারনের এই পদক্ষেপের পর থেকেই ইসরাইল আল-আকসা কমপ্লেক্সের ওপর জর্ডানের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ খর্ব করে চলেছে। সম্প্রতি ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী কমপ্লেক্সের সর্বত্র বিচরণ করেছে এবং চত্বরের কেন্দ্রে একটি পুলিশ স্টেশনও স্থাপন করেছে। মসজিদের কর্মীরা ইসরাইলি সেনাদের অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ করতে পারছেন না। চত্বরটির দেয়ালগুলো বুলেটের আঘাতে জর্জরিত, যা মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর গুলি চালানোর প্রমাণ বহন করে।

সম্প্রতি ‘মিডল ইস্ট আই’য়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আল-আকসার তত্ত্বাবধানের ঐতিহাসিক দায়িত্ব থেকে জর্ডানের রাজপরিবারকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র করছে। যদিও একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও এই খবর আল-আকসার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা সমর্থিত দীর্ঘস্থায়ী স্থিতাবস্থা লঙ্ঘন করে ইসরাইলের এই হস্তক্ষেপ শুধু জঘন্যই নয়, সম্পূর্ণ অবৈধও।