ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে ইসলামপুরে শত শত পরিবার নিঃস্ব, অস্তিত্ব সংকটে মন্নিয়া চর

জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে মন্নিয়া চরের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও বহু স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সম্প্রতি যমুনা নদী নতুন করে তার রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। প্রবল স্রোত ও ভয়াবহ ভাঙনে চরবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছে। প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো দ্বীপচর মন্নিয়া এখন অস্তিত্বের সংকটে। নদীর অব্যাহত আগ্রাসনে জনপদটি বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছে। গত কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের কয়েকশ মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নদীতে বিলীন হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, শত শত গাছপালা ও অসংখ্য বসতবাড়ি।

ভয়াবহ ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি পুরোনো মসজিদ, স্থানীয় বাজার, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প, পাকা সড়ক এবং গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, চরজুড়ে শুধুই ভাঙনের ক্ষতচিহ্ন। কোথাও ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার বাড়ির আঙিনার পাশেই তৈরি হয়েছে গভীর খাদ। নদীর তীরজুড়ে বাঁশ, বালুভর্তি বস্তা ও মাটির বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ।

ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, স্বাধীনতার আগেই যমুনার বুকে জেগে উঠেছিল মন্নিয়া চর। ৭০ বছরে ধীরে ধীরে সেখানে গড়ে ওঠে জনবসতি। সময়ের পরিক্রমায় এটি পরিণত হয় একটি পূর্ণাঙ্গ জনপদে। বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস এই চরে। মানুষের প্রয়োজন মেটাতে গড়ে উঠেছে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সুবিধাসহ নানা নাগরিক অবকাঠামো। তিনি বলেন, চরের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। ধান, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন রবি ফসল উৎপাদনের জন্য এটি অত্যন্ত উর্বর এলাকা। কিন্তু এখন সেই উর্বর জমির বড় অংশই নদীতে চলে গেছে। যেভাবে যমুনা ভাঙছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ইসলামপুরের মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে মন্নিয়া চর। মন্নিয়া চরের বাসিন্দা আব্দুল কালাম নদীর দিকে ইশারা করে বলেন, ওই জায়গাটাতেই আমার চাচার বাড়ি ছিল। কয়েকদিন আগেও সেখানে মানুষ বসবাস করত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ নির্মাতাদের রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র: ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ নিয়ে আলোচনা

যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে ইসলামপুরে শত শত পরিবার নিঃস্ব, অস্তিত্ব সংকটে মন্নিয়া চর

আপডেট সময় : ০৩:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে মন্নিয়া চরের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও বহু স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সম্প্রতি যমুনা নদী নতুন করে তার রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। প্রবল স্রোত ও ভয়াবহ ভাঙনে চরবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছে। প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো দ্বীপচর মন্নিয়া এখন অস্তিত্বের সংকটে। নদীর অব্যাহত আগ্রাসনে জনপদটি বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছে। গত কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের কয়েকশ মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নদীতে বিলীন হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, শত শত গাছপালা ও অসংখ্য বসতবাড়ি।

ভয়াবহ ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি পুরোনো মসজিদ, স্থানীয় বাজার, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প, পাকা সড়ক এবং গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, চরজুড়ে শুধুই ভাঙনের ক্ষতচিহ্ন। কোথাও ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার বাড়ির আঙিনার পাশেই তৈরি হয়েছে গভীর খাদ। নদীর তীরজুড়ে বাঁশ, বালুভর্তি বস্তা ও মাটির বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ।

ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, স্বাধীনতার আগেই যমুনার বুকে জেগে উঠেছিল মন্নিয়া চর। ৭০ বছরে ধীরে ধীরে সেখানে গড়ে ওঠে জনবসতি। সময়ের পরিক্রমায় এটি পরিণত হয় একটি পূর্ণাঙ্গ জনপদে। বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস এই চরে। মানুষের প্রয়োজন মেটাতে গড়ে উঠেছে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সুবিধাসহ নানা নাগরিক অবকাঠামো। তিনি বলেন, চরের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। ধান, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন রবি ফসল উৎপাদনের জন্য এটি অত্যন্ত উর্বর এলাকা। কিন্তু এখন সেই উর্বর জমির বড় অংশই নদীতে চলে গেছে। যেভাবে যমুনা ভাঙছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ইসলামপুরের মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে মন্নিয়া চর। মন্নিয়া চরের বাসিন্দা আব্দুল কালাম নদীর দিকে ইশারা করে বলেন, ওই জায়গাটাতেই আমার চাচার বাড়ি ছিল। কয়েকদিন আগেও সেখানে মানুষ বসবাস করত।