কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ‘মওলানা ভাসানী সেতুর’ সংযোগ সড়কের বেহাল দশা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ানো হলেও কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘসূত্রতা ও বৃষ্টির কারণে সদ্যনির্মিত সড়কের দুপাশে প্রায় ১০০টি ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা সড়কটিকে চলাচলের অনুপযোগী করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, পাঁচপীর বাজার থেকে চিলমারী হেডকোয়ার্টার পর্যন্ত প্রায় ৫.২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সংযোগ সড়কের উন্নয়নকাজ ১০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হয়েছিল। নাটোরের মীর হাবিবুল আলমের লাইসেন্স ব্যবহার করে রৌমারীর ঠিকাদার রাশেদুল ইসলাম কাজটি পেয়েছেন। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও এখন পর্যন্ত মাত্র ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের দুপাশের মাটি ধসে গিয়ে প্রায় ১০০টি স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। কিছু গর্ত এতই বড় যে ভারী যানবাহন ছাড়াও রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল এবং পথচারীদের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ট্রাকচালক জোনাব আলী জানান, ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাতে হচ্ছে। সিএনজি চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে গর্ত এড়িয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে বিপদে পড়তে হয় এবং দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।’
এ বিষয়ে ঠিকাদার রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জানিয়েছেন, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















