ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সীমান্তে উত্তেজনা: তিন দিন পর ১২ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত নিল বিএসএফ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে তিন দিন ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন বাংলাদেশিকে অবশেষে ফেরত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই ঘটনাThea সমাধানের লক্ষ্যে সোমবার সকাল ১১টার দিকে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলার সংলগ্ন এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি। পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছয় থেকে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এবং বিএসএফের পক্ষে রাণীনগর কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমার যাদবের নেতৃত্বে সমসংখ্যক প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো ১২ জন ব্যক্তিকে স্থানীয়দের সহায়তায় শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সোমবার অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে গত শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বিএসএফ একই সংখ্যক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন বিকেল ৪টায় একটি পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলেও বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস পিলার সংলগ্ন এলাকায় দুই বাহিনীর মধ্যে আরেকটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় ওই ১২ জন ব্যক্তি শূন্যরেখাতেই অবস্থান করতে বাধ্য হন।

এ সময় বিএসএফ দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সময় চেয়ে নেয়।

পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন উজির আলী (৫০), তাঁর স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), ছেলে শিহাদ (১৭), ইনজামুল (৮) এবং আড়াই বছরের শিশু সামাদ। এছাড়া রফিকুল গাজীর পরিবারের তিন সদস্য এবং আফরোজা খাতুনের পরিবারের চার সদস্যও রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ নির্মাতাদের রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র: ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ নিয়ে আলোচনা

সীমান্তে উত্তেজনা: তিন দিন পর ১২ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত নিল বিএসএফ

আপডেট সময় : ০৩:১২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে তিন দিন ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন বাংলাদেশিকে অবশেষে ফেরত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই ঘটনাThea সমাধানের লক্ষ্যে সোমবার সকাল ১১টার দিকে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলার সংলগ্ন এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি। পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছয় থেকে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এবং বিএসএফের পক্ষে রাণীনগর কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমার যাদবের নেতৃত্বে সমসংখ্যক প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো ১২ জন ব্যক্তিকে স্থানীয়দের সহায়তায় শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সোমবার অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে গত শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বিএসএফ একই সংখ্যক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন বিকেল ৪টায় একটি পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলেও বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস পিলার সংলগ্ন এলাকায় দুই বাহিনীর মধ্যে আরেকটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় ওই ১২ জন ব্যক্তি শূন্যরেখাতেই অবস্থান করতে বাধ্য হন।

এ সময় বিএসএফ দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সময় চেয়ে নেয়।

পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন উজির আলী (৫০), তাঁর স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), ছেলে শিহাদ (১৭), ইনজামুল (৮) এবং আড়াই বছরের শিশু সামাদ। এছাড়া রফিকুল গাজীর পরিবারের তিন সদস্য এবং আফরোজা খাতুনের পরিবারের চার সদস্যও রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।