ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

শিবির নেতাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন, মিলছে না জবাব

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান মিয়া অপহৃত হয়েছিলেন নাকি তিনি আত্মগোপনে ছিলেন, তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাতে লাকসাম থেকে উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেছিলেন যে তাকে গাড়িযোগে অপহরণ করা হয়েছিল।

তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, বরং তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছিলেন। কিন্তু গতকাল রোববার দাউদকান্দি থানার ওসি এম এ বারীর সঙ্গে কথা বলে পাওয়া যায় ভিন্ন তথ্য।

ওসি বারী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার জিসানের বড় ভাই রাসেল রাফি দাউদকান্দি থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর আমরা অনুসন্ধান শুরু করি। জিসানের মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে জানতে পারি লিজা আক্তার নামে এক মেয়ের সঙ্গে তার কয়েক মাস ধরে কথোপকথন চলছে। এই সূত্রে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবার বাড়ি থেকে লিজাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসি।’

পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে লিজা জানান, তার সঙ্গে জিসানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করেও জিসান উধাও হয়ে যান এবং উল্টো অপহরণের নাটক করেন। এজন্য ১৩ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে জিসানের নামে ধর্ষণের মামলা করেন লিজা।

যদি নারীটি আসলেই ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন, তবে জিসান উদ্ধার হওয়ার আগেই তিনি কেন মামলা করলেন না, উদ্ধার হওয়ার পরেই বা কেন মামলা করতে হলো—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বারী বলেন, ‘জিসানকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা যখন উদ্ধারকাজে মাঠে নামি, তখন লিজার সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে চলে আসে। লিজা মনে করেছে, অপহরণের ঘটনায় তাকে জড়ানো হতে পারে এবং এই মামলায় সে আসামি হতে পারে। এজন্যই সে জিসানের বিরুদ্ধে মামলা করে।’

থানায় জিডির পর মুক্তিপণ চাওয়া নম্বরটি ট্র্যাকিং করে লোকেশন দেখা হয়েছে কিনা, পুলিশ সেই নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্টদের ধরছে না কেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বারী বলেন, ‘জিসানের সঙ্গে লিজার কথোপকথনের রেকর্ড পাওয়ার পর আমরা ওদিকে দৃষ্টি দেইনি।’

লিজা ও তার বাবা-মাকে ডিবি পুলিশের হেফাজতে রাখার কারণ কী—এ বিষয়ে ওসি বলেন, ‘লিজা এই মুহূর্তে তার বাবার বাড়িতে আছে। ইচ্ছা করলে তার সঙ্গে আপনারা কথা বলতে পারেন।’

জিসানকে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না কেন—এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লিজার করা মামলায় জিসান পুলিশ হেফাজতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিচ্ছে। চিকিৎসক ছাড়পত্র…’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এভারেস্ট জয়ী নুরুননাহার নিম্নিকে পূবালী ব্যাংকের সংবর্ধনা

শিবির নেতাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন, মিলছে না জবাব

আপডেট সময় : ১১:৫৩:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান মিয়া অপহৃত হয়েছিলেন নাকি তিনি আত্মগোপনে ছিলেন, তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাতে লাকসাম থেকে উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেছিলেন যে তাকে গাড়িযোগে অপহরণ করা হয়েছিল।

তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, বরং তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছিলেন। কিন্তু গতকাল রোববার দাউদকান্দি থানার ওসি এম এ বারীর সঙ্গে কথা বলে পাওয়া যায় ভিন্ন তথ্য।

ওসি বারী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার জিসানের বড় ভাই রাসেল রাফি দাউদকান্দি থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর আমরা অনুসন্ধান শুরু করি। জিসানের মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে জানতে পারি লিজা আক্তার নামে এক মেয়ের সঙ্গে তার কয়েক মাস ধরে কথোপকথন চলছে। এই সূত্রে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবার বাড়ি থেকে লিজাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসি।’

পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে লিজা জানান, তার সঙ্গে জিসানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করেও জিসান উধাও হয়ে যান এবং উল্টো অপহরণের নাটক করেন। এজন্য ১৩ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে জিসানের নামে ধর্ষণের মামলা করেন লিজা।

যদি নারীটি আসলেই ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন, তবে জিসান উদ্ধার হওয়ার আগেই তিনি কেন মামলা করলেন না, উদ্ধার হওয়ার পরেই বা কেন মামলা করতে হলো—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বারী বলেন, ‘জিসানকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা যখন উদ্ধারকাজে মাঠে নামি, তখন লিজার সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে চলে আসে। লিজা মনে করেছে, অপহরণের ঘটনায় তাকে জড়ানো হতে পারে এবং এই মামলায় সে আসামি হতে পারে। এজন্যই সে জিসানের বিরুদ্ধে মামলা করে।’

থানায় জিডির পর মুক্তিপণ চাওয়া নম্বরটি ট্র্যাকিং করে লোকেশন দেখা হয়েছে কিনা, পুলিশ সেই নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্টদের ধরছে না কেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বারী বলেন, ‘জিসানের সঙ্গে লিজার কথোপকথনের রেকর্ড পাওয়ার পর আমরা ওদিকে দৃষ্টি দেইনি।’

লিজা ও তার বাবা-মাকে ডিবি পুলিশের হেফাজতে রাখার কারণ কী—এ বিষয়ে ওসি বলেন, ‘লিজা এই মুহূর্তে তার বাবার বাড়িতে আছে। ইচ্ছা করলে তার সঙ্গে আপনারা কথা বলতে পারেন।’

জিসানকে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না কেন—এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লিজার করা মামলায় জিসান পুলিশ হেফাজতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিচ্ছে। চিকিৎসক ছাড়পত্র…’