ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

শ্যামনগর উপকূলে বেড়িবাঁধ নির্মাণকালে চর দখল, বনাঞ্চল উজাড় ও হিন্দু পরিবার উচ্ছেদের অভিযোগ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ সংস্কার প্রকল্প নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের বিরুদ্ধে নদীর চর দখল, প্রাকৃতিক বনায়ন উজাড়, শ্মশানঘাট দখল এবং ভূমিহীন হিন্দু পরিবার উচ্ছেদের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়রা হয়রানি ও মামলার শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে জাইকার অর্থায়নে শ্যামনগরের উপকূলীয় এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কারের কাজ করছে আর-রাদ করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সবুজ খান অতীতেও প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে খোলপেটুয়া নদীর চর দখল এবং প্রায় ৯০ একর জমি লিজ নিয়ে চিংড়ি প্রকল্প গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খোলপেটুয়া নদীর তীরে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা প্রায় তিন শতাধিক ছোট-বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই গাছগুলো ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় বেড়িবাঁধকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা দিত। গাছ কাটার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে এবং উপকূলীয় বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর দুর্গাবাটি এলাকার চরে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির প্রায় তিন শতাধিক গাছ কেটে ফেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। একই রাতে তিনটি ভেকু মেশিন ব্যবহার করে প্রায় ১৫ একর বিস্তীর্ণ চরে বেড়িবাঁধ আকারে রিংবাঁধ নির্মাণ করা হয়, যা নদীর স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার পানিপ্রবাহকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

খবর পেয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে রাতারাতি নির্মিত রিংবাঁধ অপসারণ করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করেন। এরপর থেকে ওই অংশে বাঁধ সংস্কারের কাজ বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য বিকাশ মণ্ডল ও আব্দুল আজিজের অভিযোগ, বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ সংস্কারের নামে এমন নানা অনিয়ম চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এভারেস্ট জয়ী নুরুননাহার নিম্নিকে পূবালী ব্যাংকের সংবর্ধনা

শ্যামনগর উপকূলে বেড়িবাঁধ নির্মাণকালে চর দখল, বনাঞ্চল উজাড় ও হিন্দু পরিবার উচ্ছেদের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ সংস্কার প্রকল্প নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের বিরুদ্ধে নদীর চর দখল, প্রাকৃতিক বনায়ন উজাড়, শ্মশানঘাট দখল এবং ভূমিহীন হিন্দু পরিবার উচ্ছেদের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়রা হয়রানি ও মামলার শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে জাইকার অর্থায়নে শ্যামনগরের উপকূলীয় এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কারের কাজ করছে আর-রাদ করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সবুজ খান অতীতেও প্রভাবশালীদের নাম ব্যবহার করে খোলপেটুয়া নদীর চর দখল এবং প্রায় ৯০ একর জমি লিজ নিয়ে চিংড়ি প্রকল্প গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খোলপেটুয়া নদীর তীরে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা প্রায় তিন শতাধিক ছোট-বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই গাছগুলো ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় বেড়িবাঁধকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা দিত। গাছ কাটার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে এবং উপকূলীয় বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর দুর্গাবাটি এলাকার চরে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির প্রায় তিন শতাধিক গাছ কেটে ফেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। একই রাতে তিনটি ভেকু মেশিন ব্যবহার করে প্রায় ১৫ একর বিস্তীর্ণ চরে বেড়িবাঁধ আকারে রিংবাঁধ নির্মাণ করা হয়, যা নদীর স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার পানিপ্রবাহকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

খবর পেয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে রাতারাতি নির্মিত রিংবাঁধ অপসারণ করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করেন। এরপর থেকে ওই অংশে বাঁধ সংস্কারের কাজ বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য বিকাশ মণ্ডল ও আব্দুল আজিজের অভিযোগ, বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ সংস্কারের নামে এমন নানা অনিয়ম চলছে।