ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

কৃষি বাজেটে টেকসই উন্নয়নের বার্তা

বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষিখাত। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান, খাদ্য উৎপাদন এবং শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে কৃষির অবদান অনস্বীকার্য। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাড়তে থাকা খাদ্যচাহিদার বাস্তবতায় কৃষিকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তোলার বিকল্প নেই।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে এসব খাতের জন্য মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই তিন খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে ৬ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। এই বৃদ্ধি সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

কৃষি কেবল খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়, এটি দেশের বৃহৎ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। লাখ লাখ কৃষক, মাছচাষি, খামারি এবং কৃষি উদ্যোক্তার জীবিকা এই খাতের সঙ্গে জড়িত। কৃষির উন্নয়ন মানেই গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাস। তাই কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়ানো শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

নতুন বাজেটে খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত সম্প্রসারণ, উন্নত বীজ ব্যবহার, কৃষি গবেষণা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ধান-গমের পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, তেলবীজ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে কৃষি ভর্তুকির পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। সার, বীজ, সেচ এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণে সরকারি সহায়তা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভর্তুকি উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শ্রমিক সংকট মোকাবিলা এবং কৃষিকে আধুনিক করার লক্ষ্যে যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং সময় সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল ও স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য অনলাইন তথ্যসেবা, মোবাইল অ্যাপ, আবহাওয়াভিত্তিক পরামর্শ, ড্রোন প্রযুক্তি, স্মার্ট সেচ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনার প্রসারের উদ্যোগ ভবিষ্যতের কৃষিকে আরও লাভজনক ও কার্যকর করে তুলতে পারে।

প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে কৃষক কার্ড কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় কৃষক কার্ডধারী প্রান্তিক কৃষকেরা বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এ জন্য বাজেটে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজে তাদের উৎসাহ আরও বাড়বে।

কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নও বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, গুদামজাতকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে উৎপাদনের পর ফসলের অপচয় কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য বাজার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বন্যা, খরা কিংবা বাজার অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল, বিশেষ সহায়তা এবং পুনর্বাসন কর্মসূচির সুযোগ রাখা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নেও নতুন বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাছ, দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে উন্নত জাত সম্প্রসারণ, রোগ নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় টেকসই কৃষি ব্যবস্থার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্যা, লবণাক্ততা, খরা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম ব্যবহারের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য বাড়তি ৬ হাজার ২০৯ কোটি টাকার বরাদ্দ কেবল একটি আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের কল্যাণ, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ। যথাযথ পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এই বাজেট বাংলাদেশের কৃষিকে আরও আধুনিক, উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। এর ফলে কৃষকের জীবনমান উন্নত হবে, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দেশ আরও এগিয়ে যাবে একটি টেকসই ও স্মার্ট কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির পথে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন বাজেটের প্রভাব পড়েনি নিত্যপণ্যের দামে, বাজারে সরবরাহ সন্তোষজনক

কৃষি বাজেটে টেকসই উন্নয়নের বার্তা

আপডেট সময় : ০৮:০০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষিখাত। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান, খাদ্য উৎপাদন এবং শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে কৃষির অবদান অনস্বীকার্য। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাড়তে থাকা খাদ্যচাহিদার বাস্তবতায় কৃষিকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তোলার বিকল্প নেই।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে এসব খাতের জন্য মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই তিন খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে ৬ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। এই বৃদ্ধি সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

কৃষি কেবল খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়, এটি দেশের বৃহৎ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। লাখ লাখ কৃষক, মাছচাষি, খামারি এবং কৃষি উদ্যোক্তার জীবিকা এই খাতের সঙ্গে জড়িত। কৃষির উন্নয়ন মানেই গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাস। তাই কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়ানো শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

নতুন বাজেটে খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত সম্প্রসারণ, উন্নত বীজ ব্যবহার, কৃষি গবেষণা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ধান-গমের পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, তেলবীজ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে কৃষি ভর্তুকির পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। সার, বীজ, সেচ এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণে সরকারি সহায়তা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভর্তুকি উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শ্রমিক সংকট মোকাবিলা এবং কৃষিকে আধুনিক করার লক্ষ্যে যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং সময় সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল ও স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য অনলাইন তথ্যসেবা, মোবাইল অ্যাপ, আবহাওয়াভিত্তিক পরামর্শ, ড্রোন প্রযুক্তি, স্মার্ট সেচ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনার প্রসারের উদ্যোগ ভবিষ্যতের কৃষিকে আরও লাভজনক ও কার্যকর করে তুলতে পারে।

প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে কৃষক কার্ড কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় কৃষক কার্ডধারী প্রান্তিক কৃষকেরা বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এ জন্য বাজেটে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজে তাদের উৎসাহ আরও বাড়বে।

কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নও বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, গুদামজাতকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে উৎপাদনের পর ফসলের অপচয় কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য বাজার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বন্যা, খরা কিংবা বাজার অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল, বিশেষ সহায়তা এবং পুনর্বাসন কর্মসূচির সুযোগ রাখা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নেও নতুন বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাছ, দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে উন্নত জাত সম্প্রসারণ, রোগ নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় টেকসই কৃষি ব্যবস্থার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্যা, লবণাক্ততা, খরা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম ব্যবহারের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য বাড়তি ৬ হাজার ২০৯ কোটি টাকার বরাদ্দ কেবল একটি আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের কল্যাণ, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ। যথাযথ পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এই বাজেট বাংলাদেশের কৃষিকে আরও আধুনিক, উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। এর ফলে কৃষকের জীবনমান উন্নত হবে, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দেশ আরও এগিয়ে যাবে একটি টেকসই ও স্মার্ট কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির পথে।