কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও মানবিক সহায়তার তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনদের দিকে, যাদেরকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, বর্গাচাষি ও প্রান্তিক চাষিদের বাদ দিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অতিবৃষ্টিজনিত অকাল বন্যায় নিকলী উপজেলার হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার একর পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ও রোদের অভাবে অনেক জমির ধান পচে নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার লক্ষ্যে সরকার মানবিক সহায়তা ও প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করে। উপজেলা কৃষি বিভাগ মাইকিং করে কৃষকদের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে এবং সাতটি ইউনিয়ন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরবর্তীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সেখান থেকে একটি তালিকা অনুমোদন দেয়।
সোমবার সিংপুর ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে। সিংপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. রুকন আহমেদ জানান, তিনি চাষাবাদ করে প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়লেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় তার নাম নেই। অথচ এমন অনেকের নাম রয়েছে যারা কোনো ধরনের চাষাবাদই করেননি। এদিকে, সিংপুর ইউনিয়নে তালিকা প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব আহম্মেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম করা হয়েছে। এই অভিযোগে সিংপুর ইউনিয়নের ভাটিবরাটিয়া গ্রামের মো. খাইরুজ্জামান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব আহম্মেদ।
রিপোর্টারের নাম 






















