ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ভারতে সন্তান জন্মহারের উদ্বেগজনক পতন: কারণ ও সামাজিক প্রভাব

ভারতে সন্তান জন্মহার দ্রুত ও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে, যা দেশটির জনসংখ্যা স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। সর্বশেষ স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসআরএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের মোট প্রজনন হার (টিএফআর) নেমে এসেছে প্রতি নারীতে ১.৯ সন্তানে। যেখানে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে ন্যূনতম ২.১ হার প্রয়োজন, সেখানে বর্তমান হার এর নিচে অবস্থান করছে। দুই দশক আগেও এই হার ছিল প্রায় ৩.৩, যা বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে।

বিশেষজ্ঞরা এই পতনের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো শিক্ষা ও ক্যারিয়ার সচেতনতা বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা। আধুনিক তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে শিক্ষিত দম্পতিরা, সন্তান নেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের ক্যারিয়ার গঠন ও সমাজে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রাখতে সক্ষম উদ্যোগে মনোনিবেশ করছেন। অনেক দম্পতি তো সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন।

বেঙ্গালুরুর মতো প্রযুক্তিনির্ভর শহরগুলোতে এই প্রবণতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ৪১ বছর বয়সী নিধি আগারওয়াল ও তার স্বামী বিয়ের শুরুতেই সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা তাদের কাছে ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত সাফল্যের পথে সহায়ক। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ জ্যোৎস্না মিরলে জানান, একসময় সমাজে বিয়ে ও সন্তান ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হলেও, এখন শিক্ষিত ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নারীরা সেই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছেন এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়ার আরেকটি কারণ হলো ডিম্বাণু সংরক্ষণ বা ‘এগ ফ্রিজিং’ পদ্ধতির সহজলভ্যতা। ভারতে বর্তমানে দুই হাজারের বেশি ফার্টিলিটি সেন্টার এই সুবিধা দিচ্ছে, যা নারীদের উপযুক্ত সময় ও আর্থিক সক্ষমতা অর্জনের পর মাতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

তবে শুধু ক্যারিয়ার নয়, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মূল্যস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির গড় বার্ষিক আয় ২ হাজার ৮৭৮ মার্কিন ডলার হলেও, সন্তান লালন-পালনের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনেক দম্পতিকে সন্তান গ্রহণে নিরুৎসাহিত করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্ক যেন জাহ্নবীর নিত্যসঙ্গী

ভারতে সন্তান জন্মহারের উদ্বেগজনক পতন: কারণ ও সামাজিক প্রভাব

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ভারতে সন্তান জন্মহার দ্রুত ও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে, যা দেশটির জনসংখ্যা স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। সর্বশেষ স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসআরএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের মোট প্রজনন হার (টিএফআর) নেমে এসেছে প্রতি নারীতে ১.৯ সন্তানে। যেখানে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে ন্যূনতম ২.১ হার প্রয়োজন, সেখানে বর্তমান হার এর নিচে অবস্থান করছে। দুই দশক আগেও এই হার ছিল প্রায় ৩.৩, যা বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে।

বিশেষজ্ঞরা এই পতনের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো শিক্ষা ও ক্যারিয়ার সচেতনতা বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা। আধুনিক তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে শিক্ষিত দম্পতিরা, সন্তান নেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের ক্যারিয়ার গঠন ও সমাজে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রাখতে সক্ষম উদ্যোগে মনোনিবেশ করছেন। অনেক দম্পতি তো সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন।

বেঙ্গালুরুর মতো প্রযুক্তিনির্ভর শহরগুলোতে এই প্রবণতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ৪১ বছর বয়সী নিধি আগারওয়াল ও তার স্বামী বিয়ের শুরুতেই সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা তাদের কাছে ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত সাফল্যের পথে সহায়ক। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ জ্যোৎস্না মিরলে জানান, একসময় সমাজে বিয়ে ও সন্তান ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হলেও, এখন শিক্ষিত ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নারীরা সেই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছেন এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়ার আরেকটি কারণ হলো ডিম্বাণু সংরক্ষণ বা ‘এগ ফ্রিজিং’ পদ্ধতির সহজলভ্যতা। ভারতে বর্তমানে দুই হাজারের বেশি ফার্টিলিটি সেন্টার এই সুবিধা দিচ্ছে, যা নারীদের উপযুক্ত সময় ও আর্থিক সক্ষমতা অর্জনের পর মাতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

তবে শুধু ক্যারিয়ার নয়, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মূল্যস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির গড় বার্ষিক আয় ২ হাজার ৮৭৮ মার্কিন ডলার হলেও, সন্তান লালন-পালনের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনেক দম্পতিকে সন্তান গ্রহণে নিরুৎসাহিত করছে।