ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রাশিয়ায় মুসলিম নেতাদের গণগ্রেপ্তার: বাড়ছে ইসলামোফোবিয়া?

চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী সেদেশের বেশ কয়েকজন মুসলিম আলেম ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে আটক করে। সরকারি গণমাধ্যমগুলোতে এসব গ্রেপ্তারের খবর সীমিত আকারে প্রকাশিত হলেও, অনলাইনে এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে আসে।

উগ্র ডানপন্থী সংগঠন ও চ্যানেলগুলোর দাবি, এসব গ্রেপ্তার ক্রেমলিন-সমর্থিত স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমস (ডিইউএম) ভেঙে দেওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অভিযানেরই অংশ। অন্যদিকে, রাশিয়ার বাইরের গণমাধ্যমগুলো এসব পদক্ষেপকে দেশটিতে ইসলামবিদ্বেষ বাড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। এক্ষেত্রে তারা ‘আবাসিক ভবনে’ গণউপাসনা নিষিদ্ধের নতুন বিতর্কিত আইনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

বিবিসি মনিটরিং এই গ্রেপ্তার, স্থানীয় আলেমদের প্রতিক্রিয়া এবং রাশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে আটজন মুসলিম আলেম ও কমিউনিটি প্রতিনিধিকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে অন্তত একজন পরে মুক্তি পান। আটককৃতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, ১৪ মে শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে ‘পুলিশের সঙ্গে অবাধ্যতা’র অভিযোগে উইসাম বার্দভিলকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফোরতাঙ্গার তথ্যমতে, রাশিয়ার এফএসবি সংস্থা ১২ মে ধর্মযাজক ও বার্দভিলের ডেপুটি আখমাদ তাঙ্গিয়েভকেও আটক করে।

রাশিয়ার জনপ্রিয় সংবাদ সাইট লেন্তা ডট রু ১৯ মে জানায়, মর্দোভিয়া প্রজাতন্ত্রের মুফতি রয়াল আসেনভকে ‘ঘুষ চাওয়ার’ সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমসের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দেওয়া হয়।

২৩ মে ব্যবসাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দৈনিক কোমেরসান্ত বিচার বিভাগের প্রেস অফিস এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে আটক ব্যক্তিদের একটি দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করে। কোমেরসান্তের তথ্য অনুযায়ী, ‘মুসলিম কমিউনিটি অব দ্য নর্থওয়েস্ট’ নামের কেন্দ্রীয় ধর্মীয় সংগঠনের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ খেনিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে তার এক আত্মীয় এবং রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের ডেপুটি মুফতি আল-খেইখ নিদাল আওয়াদুল্লাহ আহমদের সঙ্গে আটক করা হয়।

এছাড়াও, কোমেরসান্ত আরও চারজন আটক ব্যক্তির আদ্যক্ষর ও পদবি প্রকাশ করে, যাদের তাতারস্তান, মারমানস্ক ও পেট্রোজাভোদস্কের মুফতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গণগ্রেপ্তার রাশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং দেশটির ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই নজরদারিতে ফ্যামিলি কার্ড, জালিয়াতি ঠেকাতে আসছে স্মার্ট যাচাই ব্যবস্থা

রাশিয়ায় মুসলিম নেতাদের গণগ্রেপ্তার: বাড়ছে ইসলামোফোবিয়া?

আপডেট সময় : ১১:৫১:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী সেদেশের বেশ কয়েকজন মুসলিম আলেম ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে আটক করে। সরকারি গণমাধ্যমগুলোতে এসব গ্রেপ্তারের খবর সীমিত আকারে প্রকাশিত হলেও, অনলাইনে এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে আসে।

উগ্র ডানপন্থী সংগঠন ও চ্যানেলগুলোর দাবি, এসব গ্রেপ্তার ক্রেমলিন-সমর্থিত স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমস (ডিইউএম) ভেঙে দেওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অভিযানেরই অংশ। অন্যদিকে, রাশিয়ার বাইরের গণমাধ্যমগুলো এসব পদক্ষেপকে দেশটিতে ইসলামবিদ্বেষ বাড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। এক্ষেত্রে তারা ‘আবাসিক ভবনে’ গণউপাসনা নিষিদ্ধের নতুন বিতর্কিত আইনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

বিবিসি মনিটরিং এই গ্রেপ্তার, স্থানীয় আলেমদের প্রতিক্রিয়া এবং রাশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে আটজন মুসলিম আলেম ও কমিউনিটি প্রতিনিধিকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে অন্তত একজন পরে মুক্তি পান। আটককৃতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, ১৪ মে শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে ‘পুলিশের সঙ্গে অবাধ্যতা’র অভিযোগে উইসাম বার্দভিলকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফোরতাঙ্গার তথ্যমতে, রাশিয়ার এফএসবি সংস্থা ১২ মে ধর্মযাজক ও বার্দভিলের ডেপুটি আখমাদ তাঙ্গিয়েভকেও আটক করে।

রাশিয়ার জনপ্রিয় সংবাদ সাইট লেন্তা ডট রু ১৯ মে জানায়, মর্দোভিয়া প্রজাতন্ত্রের মুফতি রয়াল আসেনভকে ‘ঘুষ চাওয়ার’ সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমসের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দেওয়া হয়।

২৩ মে ব্যবসাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দৈনিক কোমেরসান্ত বিচার বিভাগের প্রেস অফিস এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে আটক ব্যক্তিদের একটি দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করে। কোমেরসান্তের তথ্য অনুযায়ী, ‘মুসলিম কমিউনিটি অব দ্য নর্থওয়েস্ট’ নামের কেন্দ্রীয় ধর্মীয় সংগঠনের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ খেনিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে তার এক আত্মীয় এবং রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের ডেপুটি মুফতি আল-খেইখ নিদাল আওয়াদুল্লাহ আহমদের সঙ্গে আটক করা হয়।

এছাড়াও, কোমেরসান্ত আরও চারজন আটক ব্যক্তির আদ্যক্ষর ও পদবি প্রকাশ করে, যাদের তাতারস্তান, মারমানস্ক ও পেট্রোজাভোদস্কের মুফতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গণগ্রেপ্তার রাশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং দেশটির ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।