ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

হামের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই ডেঙ্গুর শঙ্কা, উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য খাত যখন চাপে রয়েছে, তখন বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ডেঙ্গু। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, হামের চলমান সংকটের সঙ্গে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়লে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৭৬ জন। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই ডেঙ্গুতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে এইডিস মশার প্রজনন দ্রুত বাড়ে। ফলে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর সংক্রমণ সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এ বছরও একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি রোগ নয়, বরং সারা বছরের জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। তিনি ডেঙ্গু মোকাবিলাকে ‘সামগ্রিক জাতীয় লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সিটি করপোরেশনের পক্ষে এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। ডোবা, নালা, জলাবদ্ধ স্থান এবং মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা মশকনিধন কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত ফগিং করা হলেও মশার উপদ্রব কমছে না। বিশেষ করে বৃষ্টির পর জমে থাকা পানিতে মশার বিস্তার আরও বেড়েছে।

কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, বৃষ্টিপাত ও উষ্ণ আবহাওয়া এইডিস মশার বংশবিস্তারকে ত্বরান্বিত করে। ফলে আগামী কয়েক মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব চলমান থাকা অবস্থায় ডেঙ্গু ব্যাপক আকার ধারণ করলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।

তবে তিনি মনে করেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্যালাইন ও হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা গেলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, শুধু ধোঁয়া ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশার লার্ভা ধ্বংস, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি যেখানে এইডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশসহ ৭ দেশের জন্য সৌদি আরবের নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’

হামের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই ডেঙ্গুর শঙ্কা, উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য খাতে

আপডেট সময় : ০৭:৪২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য খাত যখন চাপে রয়েছে, তখন বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ডেঙ্গু। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, হামের চলমান সংকটের সঙ্গে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়লে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৭৬ জন। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই ডেঙ্গুতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে এইডিস মশার প্রজনন দ্রুত বাড়ে। ফলে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর সংক্রমণ সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এ বছরও একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি রোগ নয়, বরং সারা বছরের জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। তিনি ডেঙ্গু মোকাবিলাকে ‘সামগ্রিক জাতীয় লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সিটি করপোরেশনের পক্ষে এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। ডোবা, নালা, জলাবদ্ধ স্থান এবং মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা মশকনিধন কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত ফগিং করা হলেও মশার উপদ্রব কমছে না। বিশেষ করে বৃষ্টির পর জমে থাকা পানিতে মশার বিস্তার আরও বেড়েছে।

কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, বৃষ্টিপাত ও উষ্ণ আবহাওয়া এইডিস মশার বংশবিস্তারকে ত্বরান্বিত করে। ফলে আগামী কয়েক মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব চলমান থাকা অবস্থায় ডেঙ্গু ব্যাপক আকার ধারণ করলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।

তবে তিনি মনে করেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্যালাইন ও হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা গেলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, শুধু ধোঁয়া ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশার লার্ভা ধ্বংস, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি যেখানে এইডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।