ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সংরক্ষণ সংকটে নষ্ট হতে পারে ৩১ লাখের বেশি কোরবানির পশুর চামড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার কারণে এবারও বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রায় ৩১ লাখের বেশি পশুর চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে এবারের ঈদুল আজহায় সারা দেশে প্রায় ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। এর বিপরীতে বিসিক জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬২ লাখ ৫৪ হাজার চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত চামড়ার মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ গরু ও মহিষের এবং বাকি প্রায় ২৮ শতাংশ ছাগল ও ভেড়ার চামড়া। সংরক্ষিত চামড়ার বড় অংশ বিভিন্ন গুদামে রাখা হয়েছে, আর বাকিগুলো মাদ্রাসা ও ট্যানারিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে কোরবানিদাতা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় চামড়া বিক্রি করেননি। আবার সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে অনেক চামড়ার মান নষ্ট হয়েছে। কোথাও কোথাও চামড়া ফেলে দেওয়া বা মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেন, ট্যানারিগুলো সরকার নির্ধারিত দামে লবণযুক্ত চামড়া কিনছে। তবে কাঁচা চামড়ার দাম স্থানীয় বাজার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করে। তাঁর মতে, মাঠপর্যায়ে সংরক্ষণ ও মূল্যসংক্রান্ত বিভ্রান্তির কারণেই প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়।

চামড়া খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, যথাযথ সংরক্ষণ, দ্রুত সংগ্রহ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা গেলে বিপুল পরিমাণ চামড়া রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যথায় প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রপ্তানিযোগ্য সম্পদের বড় একটি অংশ অপচয়ের শিকার হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্ববাজারে বাংলাদেশি জাহাজের কদর: সংকট কাটিয়ে রপ্তানিতে ফিরল গতি

সংরক্ষণ সংকটে নষ্ট হতে পারে ৩১ লাখের বেশি কোরবানির পশুর চামড়া

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার কারণে এবারও বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রায় ৩১ লাখের বেশি পশুর চামড়া সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে এবারের ঈদুল আজহায় সারা দেশে প্রায় ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। এর বিপরীতে বিসিক জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬২ লাখ ৫৪ হাজার চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত চামড়ার মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ গরু ও মহিষের এবং বাকি প্রায় ২৮ শতাংশ ছাগল ও ভেড়ার চামড়া। সংরক্ষিত চামড়ার বড় অংশ বিভিন্ন গুদামে রাখা হয়েছে, আর বাকিগুলো মাদ্রাসা ও ট্যানারিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে কোরবানিদাতা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় চামড়া বিক্রি করেননি। আবার সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে অনেক চামড়ার মান নষ্ট হয়েছে। কোথাও কোথাও চামড়া ফেলে দেওয়া বা মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেন, ট্যানারিগুলো সরকার নির্ধারিত দামে লবণযুক্ত চামড়া কিনছে। তবে কাঁচা চামড়ার দাম স্থানীয় বাজার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করে। তাঁর মতে, মাঠপর্যায়ে সংরক্ষণ ও মূল্যসংক্রান্ত বিভ্রান্তির কারণেই প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়।

চামড়া খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, যথাযথ সংরক্ষণ, দ্রুত সংগ্রহ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা গেলে বিপুল পরিমাণ চামড়া রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যথায় প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রপ্তানিযোগ্য সম্পদের বড় একটি অংশ অপচয়ের শিকার হবে।