জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পৌর শহরজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে পৌর ছাত্রদল ও বিএনপি নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন। এ সময় তারা ছাত্রলীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন, যা শহরে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ছাত্রলীগের কর্মীরা দেওয়ানগঞ্জের স্টেশন এলাকা, গাবতলী, কালীতলাসহ অন্তত চারটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে, বিস্ফোরণের প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে শহরের বিভিন্ন সড়কে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোডাউন করেন।
শোডাউনে অংশ নেওয়া দেওয়ানগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও পৌর বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. বিপ্লব মণ্ডল অভিযোগ করেন, “দুই দিন আগে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল করার উদ্যোগ নিয়েছিল, যা তারা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এরই জেরে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার নেতৃত্বে সন্ধ্যার পর শহরের চারটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। যদিও এতে কেউ হতাহত হয়নি। আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।”
তবে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা কেউই বর্তমানে এলাকায় অবস্থান করছি না। ছাত্রলীগ ককটেল বিস্ফোরণের মতো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। বরং ছাত্রদল বা বিএনপির লোকজনই এমন ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে।”
এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, “যেসব স্থানে বিস্ফোরণের কথা বলা হচ্ছে, সেসব জায়গা আমি নিজে পরিদর্শন করেছি। তবে কোথাও বিস্ফোরণের আলামত বা কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং বিস্ফোরণের উৎস উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























