আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচার তার বাবার হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এবং মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, ‘রামিসার বাবার আকুতি ছিল যে তিনি ন্যায়বিচার চান, কারণ তিনি ভেবেছিলেন এদেশে এমন ঘটনার বিচার হবে না। আমরা তাকে এবং তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলাম যে, আমরা এই ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’
তিনি আরও বলেন, ২৪ মে চার্জশিট দাখিলের পর আসামি পক্ষ কোনো আইনজীবী নিয়োগ না করায় বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি চেষ্টা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তবে, আইনের বিধান মেনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ২৪ তারিখে আসামিদের জন্য একজন স্টেট ডিফেন্স লয়ার নিয়োগ করা সম্ভব হয়েছিল।
আইনমন্ত্রী জানান, আজ (রোববার) রায়ের দিন ধার্য ছিল এবং আদালত সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ৪১ মিনিট পর রায় ঘোষণা করেছেন। তিনি আনন্দের সাথে জানান যে, রামিসা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুই মূল আসামি, সোহেল এবং তার সহযোগী, আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন।
মন্ত্রী মাও সেতুং-এর একটি উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, ‘কোনো কোনো মৃত্যু থাই পর্বতের মতো ভারী, আর কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা।’ তিনি বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পর্বতের মতো ভারী হয়ে আছে। এই ফাঁসির আসামিদের কার্যকর করার মধ্য দিয়ে তাদের মৃত্যু হলে তা জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হবে বলে তিনি বিশ্বাস রাখেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রামিসার বাবা বিচার চান না – এই বিষয়ে সরকারের বক্তব্য ছিল একটাই, তাকে সেই আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া। আজ রামিসার বাবা এই রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন, যা প্রমাণ করে আমরা তার আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।
রিপোর্টারের নাম 



















