ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

শিশু হত্যায় দুই আসামির ফাঁসি: ন্যায়বিচারের প্রতীকী রায়

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রোববার (৭ জুন) এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আদালত আসামিদের এই সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এই অর্থdণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী পাবে। ক্ষতিপূরণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়, বরং এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন এমন নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া সমগ্র সমাজকে আলোড়িত করেছে এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে তীব্রতর করেছে। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

বিচারক আরও বলেন, যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা কেবল একটি পরিবারকেই নয়, বরং সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে প্রায় ১৮০০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার প্রতিটিই শিশুদের প্রতি সংঘটিত সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন অথবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিশু রামিসার মামলাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, যা ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে মা-মেয়ের গণধর্ষণ: উদ্বেগ প্রকাশ আসকের

শিশু হত্যায় দুই আসামির ফাঁসি: ন্যায়বিচারের প্রতীকী রায়

আপডেট সময় : ০৩:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রোববার (৭ জুন) এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আদালত আসামিদের এই সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এই অর্থdণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী পাবে। ক্ষতিপূরণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়, বরং এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন এমন নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া সমগ্র সমাজকে আলোড়িত করেছে এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে তীব্রতর করেছে। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

বিচারক আরও বলেন, যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা কেবল একটি পরিবারকেই নয়, বরং সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে প্রায় ১৮০০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার প্রতিটিই শিশুদের প্রতি সংঘটিত সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন অথবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিশু রামিসার মামলাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, যা ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।