ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

মরুভূমির দেশ সৌদি আরবে কেন লাখ লাখ টন বালি আমদানি?

পৃথিবীর বুকে বালির অভাব নেই, সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু করে সুবিশাল মরুভূমি পর্যন্ত সর্বত্রই বালি ছড়িয়ে রয়েছে। অথচ, মরুভূমির দেশ সৌদি আরবের মতো দেশগুলোকে নির্মাণ কাজের জন্য প্রতি বছর লাখ লাখ টন বালি আমদানি করতে হয়। ২০২৩ সালেই অস্ট্রেলিয়া থেকে এক লাখ ৪০ হাজার ডলার মূল্যের বালি আমদানি করেছিল সৌদি আরব। প্রশ্ন হলো, এত বিশাল মরুভূমি থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের বাইরে থেকে বালি আমদানি করতে হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের মরুভূমির বালি নির্মাণকাজে ব্যবহারের অনুপযোগী। হাজার হাজার বছর ধরে বায়ুপ্রবাহের কারণে সেখানকার বালির কণাগুলো মসৃণ ও গোলাকার হয়ে গেছে। নির্মাণের জন্য সিমেন্টের সঙ্গে যে বালি মেশানো হয়, তার কণাগুলো ভাঙা বা অমসৃণ হওয়া প্রয়োজন, যাতে সেগুলো সিমেন্টের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে একটি দৃঢ় কাঠামো তৈরি করতে পারে। মরুভূমির মসৃণ বালি সিমেন্টের সঙ্গে মিশে জমাট বাঁধে না, বরং আলগা হয়ে যায়। এই কারণেই নদী বা হ্রদের তলদেশ থেকে উত্তোলিত ভাঙা ও অমসৃণ বালির প্রয়োজন হয়, যা নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হয়। সৌদি আরবের নতুন শহর ‘নিয়োম’-এর মতো বিশাল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য প্রচুর পরিমাণে নির্মাণ-উপযোগী বালির প্রয়োজন, যা বিদেশ থেকেই আমদানি করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেন যে, বালির দানার আকার তার উৎপত্তির উপর নির্ভর করে। নদীবাহিত বালি বা হিমবাহের সঙ্গে ঘর্ষণে সৃষ্ট বালি সাধারণত অমসৃণ হয় এবং সিমেন্টের সঙ্গে ভালোভাবে আটকে থাকে। অন্যদিকে, মরুভূমির বালি বাতাস দ্বারা বাহিত হয়ে এবং একে অপরের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে হাজার হাজার বছর ধরে মসৃণ কণায় পরিণত হয়। এই মসৃণ কণাগুলো সিমেন্টের সাথে মিশে গেলে তা আলগা হয়ে পড়ে এবং এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু বা ২০ তলা উঁচু ভবন নির্মাণের মতো ভার বহনকারী কাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করা যায় না। এই কারণেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলো মূলত অস্ট্রেলিয়া থেকে বালি আমদানি করে, যেখানে প্রচুর পরিমাণে নদী রয়েছে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর নদীখাত থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টন বালি উত্তোলন করা হয়, যা ১৯৭৬ সালের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি। বর্তমানে, পানির পরেই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রাকৃতিক সম্পদ হলো বালি, এবং গত ৫০ বছর ধরে এর চাহিদা প্রতি বছর ৩.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোদাগাড়ীতে মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদ ক্রোক: তদন্তের জালে আরও ২০, আতঙ্কে গডফাদাররা

মরুভূমির দেশ সৌদি আরবে কেন লাখ লাখ টন বালি আমদানি?

আপডেট সময় : ০২:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

পৃথিবীর বুকে বালির অভাব নেই, সমুদ্র সৈকত থেকে শুরু করে সুবিশাল মরুভূমি পর্যন্ত সর্বত্রই বালি ছড়িয়ে রয়েছে। অথচ, মরুভূমির দেশ সৌদি আরবের মতো দেশগুলোকে নির্মাণ কাজের জন্য প্রতি বছর লাখ লাখ টন বালি আমদানি করতে হয়। ২০২৩ সালেই অস্ট্রেলিয়া থেকে এক লাখ ৪০ হাজার ডলার মূল্যের বালি আমদানি করেছিল সৌদি আরব। প্রশ্ন হলো, এত বিশাল মরুভূমি থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের বাইরে থেকে বালি আমদানি করতে হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের মরুভূমির বালি নির্মাণকাজে ব্যবহারের অনুপযোগী। হাজার হাজার বছর ধরে বায়ুপ্রবাহের কারণে সেখানকার বালির কণাগুলো মসৃণ ও গোলাকার হয়ে গেছে। নির্মাণের জন্য সিমেন্টের সঙ্গে যে বালি মেশানো হয়, তার কণাগুলো ভাঙা বা অমসৃণ হওয়া প্রয়োজন, যাতে সেগুলো সিমেন্টের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে একটি দৃঢ় কাঠামো তৈরি করতে পারে। মরুভূমির মসৃণ বালি সিমেন্টের সঙ্গে মিশে জমাট বাঁধে না, বরং আলগা হয়ে যায়। এই কারণেই নদী বা হ্রদের তলদেশ থেকে উত্তোলিত ভাঙা ও অমসৃণ বালির প্রয়োজন হয়, যা নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হয়। সৌদি আরবের নতুন শহর ‘নিয়োম’-এর মতো বিশাল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য প্রচুর পরিমাণে নির্মাণ-উপযোগী বালির প্রয়োজন, যা বিদেশ থেকেই আমদানি করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেন যে, বালির দানার আকার তার উৎপত্তির উপর নির্ভর করে। নদীবাহিত বালি বা হিমবাহের সঙ্গে ঘর্ষণে সৃষ্ট বালি সাধারণত অমসৃণ হয় এবং সিমেন্টের সঙ্গে ভালোভাবে আটকে থাকে। অন্যদিকে, মরুভূমির বালি বাতাস দ্বারা বাহিত হয়ে এবং একে অপরের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে হাজার হাজার বছর ধরে মসৃণ কণায় পরিণত হয়। এই মসৃণ কণাগুলো সিমেন্টের সাথে মিশে গেলে তা আলগা হয়ে পড়ে এবং এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু বা ২০ তলা উঁচু ভবন নির্মাণের মতো ভার বহনকারী কাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করা যায় না। এই কারণেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলো মূলত অস্ট্রেলিয়া থেকে বালি আমদানি করে, যেখানে প্রচুর পরিমাণে নদী রয়েছে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর নদীখাত থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টন বালি উত্তোলন করা হয়, যা ১৯৭৬ সালের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি। বর্তমানে, পানির পরেই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রাকৃতিক সম্পদ হলো বালি, এবং গত ৫০ বছর ধরে এর চাহিদা প্রতি বছর ৩.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।