ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

শিশু রামিসা হত্যায় দ্রুততম রায়ে বিচার বিভাগের মাইলফলক

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার দ্রুততম রায় বিচার বিভাগের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। রোববার ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন, তাই বিচার কার্যক্রমে কোনো প্রকার বিলম্ব হয়নি। তিনি আরও জানান, বিচারিক আদালত থেকে রেফারেন্স ও পেপার বুক আসার পর দ্রুত উচ্চ আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, রামিসার বাবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ভরসা রেখেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও এই মামলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

এর আগে, শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বেলা ১১টার পর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দুই আসামি কাঁদতে শুরু করেন। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তাদের কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর আদালতে আনা হয়। মামলার রায়কে ঘিরে আদালত পাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এই রায় ঘোষণা করা হলো।

গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে স্কুল পড়ুয়া শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেন এবং শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এরপর গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন এবং পুলিশ তাকে আটক করে। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পাঁচ দিন তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে মা-মেয়ের গণধর্ষণ: উদ্বেগ প্রকাশ আসকের

শিশু রামিসা হত্যায় দ্রুততম রায়ে বিচার বিভাগের মাইলফলক

আপডেট সময় : ০২:৩২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার দ্রুততম রায় বিচার বিভাগের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। রোববার ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন, তাই বিচার কার্যক্রমে কোনো প্রকার বিলম্ব হয়নি। তিনি আরও জানান, বিচারিক আদালত থেকে রেফারেন্স ও পেপার বুক আসার পর দ্রুত উচ্চ আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, রামিসার বাবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ভরসা রেখেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও এই মামলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

এর আগে, শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বেলা ১১টার পর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দুই আসামি কাঁদতে শুরু করেন। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তাদের কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর আদালতে আনা হয়। মামলার রায়কে ঘিরে আদালত পাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এই রায় ঘোষণা করা হলো।

গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে স্কুল পড়ুয়া শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেন এবং শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এরপর গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন এবং পুলিশ তাকে আটক করে। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পাঁচ দিন তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল।