সিলেটের ওসমানীনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং জনমনে ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘আপা’ সম্বোধন করায় এক কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করাসহ তার একের পর এক বিতর্কিত ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করেছে।
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ওসমানীনগরে যোগদানের পর থেকেই ৩৬তম বিসিএসের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মনোমালিন্যের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি, খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বনফুল অ্যান্ড কোংয়ের ওসমানীনগর শাখার এক কর্মচারীকে ‘আপা’ সম্বোধন করার কারণে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ইউএনও মুনমুন আবারও আলোচনায় আসেন। এই ঘটনার পর তার কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।
ভুক্তভোগী কর্মচারী আব্দুল মান্নানের দাবি, ইউএনও মুনমুনকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ভয় দেখিয়ে তাকে ওই জরিমানায় স্বাক্ষর করানো হয়। এই ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ইউএনও মুনমুন ঘটনাটি আড়াল করতে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে শুরু করেন।
গত বৃহস্পতিবার সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম চলাকালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন ইউএনও মুনমুন। নিজের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করেন। সংবাদ সম্মেলনে বনফুলের কর্মচারীকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের করা গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি। অভিযানে নিজের ছয় বছরের শিশু কন্যাকে সঙ্গে নেওয়ার বৈধতা, বনফুলের শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে কর্মচারীর স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিষয়েও ইউএনও মুনমুন কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পের অধীনে উপজেলার ৫৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২০ কেন্দ্রে ছয়টি করে ক্যামেরা স্থাপনের কাজেও অনিয়ম হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 



















