ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ক্রসফায়ার ও গুমের আড়ালে ন্যায়বিচার কি অধরা থাকছে?

দেশের আলোচিত ব্লগার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তদন্ত সংস্থাগুলো কর্তৃক চিহ্নিত কথিত ‘মাস্টারমাইন্ড’ মুকুল রানা এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরাফাত রহমানের মামলার নথিপত্র ও পারিপার্শ্বিক ঘটনাপ্রবাহে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) নামক কথিত সংগঠনের মাস্টারমাইন্ড শরিফুল ওরফে মুকুল রানা ২০১৬ সালের ১৯ জুন ঢাকার মেরাদিয়ায় পুলিশের সঙ্গে এক ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন। তবে এই মৃত্যুর ঘটনাপ্রবাহ ও পরবর্তীতে প্রকাশিত তথ্য একটি গভীর রহস্যের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মুকুল রানা কি সত্যিই এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ছিলেন, নাকি তাকে একটি সাজানো ঘটনার ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছিল? একইভাবে, আরাফাতের সাজা প্রাপ্তির ভিত্তি এবং তার জবানবন্দি আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়েও জাতীয় গুম সংক্রান্ত কমিশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা তথ্য-প্রমাণসহ প্রশ্ন তুলেছে। মুকুল রানা ও আরাফাতের মামলার খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করলে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং বিচারিক স্বচ্ছতার জটিল চিত্র উঠে আসে।

মুকুল রানার ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন ছিল না। সে সময় তার স্ত্রীর বড় ভাই বি এম মুজিবুর রহমানসহ আরও কয়েকজনকে গুম করার পর পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৯ জুন রাত পৌনে তিনটায় খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া এলাকায় তল্লাশির সময় মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পাল্টা গুলিতে একজন নিহত হয়, যাকে পরে মুকুল রানা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন মুকুলের পরিবার দাবি করে যে তাকে চার মাস আগেই আটক করা হয়েছিল। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুকুল রানা তার স্ত্রীকে নিয়ে যশোর হয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে বসুন্দিয়া বাজার থেকে সাদা পোশাকের একদল লোক তাকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেয়। এই অপহরণের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন স্থানীয় ভ্যানচালক শেখ জাহিদুল ইসলাম এবং মুকুলের স্ত্রী পিয়ারী খাতুন। মুকুলকে তুলে নেওয়ার দুদিন পর ২৫ ফেব্রুয়ারি তার শ্যালক আমির হোসেন যশোর কোতোয়ালী থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৩৪৪) করেন। অর্থাৎ, যে ব্যক্তিকে ১৯ জুন ‘পলাতক জঙ্গি’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে, তাকে ঘটনার চার মাস আগেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত, ভারতে পালাল

ক্রসফায়ার ও গুমের আড়ালে ন্যায়বিচার কি অধরা থাকছে?

আপডেট সময় : ১১:০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

দেশের আলোচিত ব্লগার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তদন্ত সংস্থাগুলো কর্তৃক চিহ্নিত কথিত ‘মাস্টারমাইন্ড’ মুকুল রানা এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরাফাত রহমানের মামলার নথিপত্র ও পারিপার্শ্বিক ঘটনাপ্রবাহে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) নামক কথিত সংগঠনের মাস্টারমাইন্ড শরিফুল ওরফে মুকুল রানা ২০১৬ সালের ১৯ জুন ঢাকার মেরাদিয়ায় পুলিশের সঙ্গে এক ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন। তবে এই মৃত্যুর ঘটনাপ্রবাহ ও পরবর্তীতে প্রকাশিত তথ্য একটি গভীর রহস্যের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মুকুল রানা কি সত্যিই এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ছিলেন, নাকি তাকে একটি সাজানো ঘটনার ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছিল? একইভাবে, আরাফাতের সাজা প্রাপ্তির ভিত্তি এবং তার জবানবন্দি আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়েও জাতীয় গুম সংক্রান্ত কমিশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা তথ্য-প্রমাণসহ প্রশ্ন তুলেছে। মুকুল রানা ও আরাফাতের মামলার খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করলে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং বিচারিক স্বচ্ছতার জটিল চিত্র উঠে আসে।

মুকুল রানার ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন ছিল না। সে সময় তার স্ত্রীর বড় ভাই বি এম মুজিবুর রহমানসহ আরও কয়েকজনকে গুম করার পর পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৯ জুন রাত পৌনে তিনটায় খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া এলাকায় তল্লাশির সময় মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পাল্টা গুলিতে একজন নিহত হয়, যাকে পরে মুকুল রানা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন মুকুলের পরিবার দাবি করে যে তাকে চার মাস আগেই আটক করা হয়েছিল। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুকুল রানা তার স্ত্রীকে নিয়ে যশোর হয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে বসুন্দিয়া বাজার থেকে সাদা পোশাকের একদল লোক তাকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেয়। এই অপহরণের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন স্থানীয় ভ্যানচালক শেখ জাহিদুল ইসলাম এবং মুকুলের স্ত্রী পিয়ারী খাতুন। মুকুলকে তুলে নেওয়ার দুদিন পর ২৫ ফেব্রুয়ারি তার শ্যালক আমির হোসেন যশোর কোতোয়ালী থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৩৪৪) করেন। অর্থাৎ, যে ব্যক্তিকে ১৯ জুন ‘পলাতক জঙ্গি’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে, তাকে ঘটনার চার মাস আগেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়েছিল।