ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিচার শুরু

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেছেন আদালত। ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। সোহেল রানা তার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই বলেও জানান। এদিন সকালে কারাগার থেকে তাদের আদালতে আনা হয় এবং ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।

আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্রীয় খরচে ঢাকা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয় আইন মন্ত্রণালয়। তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর শুনানি করছেন।

গত ২৪ মে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান, আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে অভিযোগপত্রটি উপস্থাপন করা হয়। চার্জশিটটি আমলে নিয়ে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকি করার পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (০৮) মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে দেখতে পান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্ভাব্য চীন সফর ঘিরে আলোচনা, বাংলাদেশের কূটনীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক

শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর বিচার শুরু

আপডেট সময় : ১১:৫৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেছেন আদালত। ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। সোহেল রানা তার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই বলেও জানান। এদিন সকালে কারাগার থেকে তাদের আদালতে আনা হয় এবং ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।

আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্রীয় খরচে ঢাকা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয় আইন মন্ত্রণালয়। তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর শুনানি করছেন।

গত ২৪ মে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান, আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে অভিযোগপত্রটি উপস্থাপন করা হয়। চার্জশিটটি আমলে নিয়ে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান। ডাকাডাকি করার পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (০৮) মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে দেখতে পান।