ঢাকা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬

১১৭টি দ্বীপের ওপর গড়ে ওঠা জল-নৌকার শহর ভেনিস

ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ভেনিস এক অভূতপূর্ব শহর, যা ১১৮টি ছোট ছোট দ্বীপের ওপর সমুদ্রের বুকে গড়ে উঠেছে। সমতল ভূমিতে নয়, বরং জলের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই শহরটি তার নিজস্ব এক জাদুকরি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। রাস্তাঘাটে গাড়ির ভিড় বা ট্রাফিক জ্যামের বদলে এখানে বয়ে চলেছে জলের ধারা, যা শহরের মূল যাতায়াত পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানকার জীবনযাত্রা ধীর ও শান্ত, যা অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে ভিন্ন।

অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের একটি উপহ্রদের মধ্যে অবস্থিত এই দ্বীপগুলোকে ৪০০-র বেশি সেতু একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। শত শত বছর আগে বহিরাগতদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে মানুষ এই লেগুন অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিল এবং সময়ের সাথে সাথে এটি ব্যবসা ও সংস্কৃতির এক প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। গাড়ি চলাচলের পথ না থাকায় জলপথকে কেন্দ্র করেই ভেনিসের অনন্য অবয়ব তৈরি হয়েছে।

এই শহরের প্রাণকেন্দ্র হলো এর বিস্তৃত খাল নেটওয়ার্ক। গ্র্যান্ড ক্যানাল ভেনিসের প্রধান জলপথ, যার দুই ধারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ভবন, গির্জা ও রাজপ্রাসাদ। ভেনিসবাসীর দৈনন্দিন জীবন এবং পণ্য আনা-নেওয়ার মূল বাহন নৌকা। সাধারণ মানুষ ‘ভাপোরেত্তো’ নামের ওয়াটার বাস এবং ওয়াটার ট্যাক্সি ব্যবহার করেন। পর্যটকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী ‘গন্ডোলা’ নৌকায় চড়ে ছোট ছোট খাল ঘুরে দেখা এক বিশেষ আকর্ষণ।

ভেনিস শুধু তার ভৌগোলিক অবস্থানের জন্যই নয়, বরং স্থাপত্য, শিল্পকলা এবং সাংস্কৃতিক ইতিহাসের জন্যও ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এখানকার সেন্ট মার্কস ব্যাসিলিকা, রিয়ালতো ব্রিজ এবং ডোগেস প্যালেস প্রতিবছর লাখ লাখ দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। ভেনিস ভ্রমণের সেরা সময় এপ্রিল থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস। আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা ভেনিস মার্কো পোলো বিমানবন্দর অথবা ইউরোপের অন্য শহর থেকে ট্রেনে চড়ে সরাসরি ভেনিস সান্টা লুচিয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাতে পারেন। ১১৮টি দ্বীপের ওপর কাঠের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই শতাব্দী প্রাচীন শহরটি এক ভিন্নধর্মী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের ছুটি শেষে আজ খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস, ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য

১১৭টি দ্বীপের ওপর গড়ে ওঠা জল-নৌকার শহর ভেনিস

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ভেনিস এক অভূতপূর্ব শহর, যা ১১৮টি ছোট ছোট দ্বীপের ওপর সমুদ্রের বুকে গড়ে উঠেছে। সমতল ভূমিতে নয়, বরং জলের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই শহরটি তার নিজস্ব এক জাদুকরি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। রাস্তাঘাটে গাড়ির ভিড় বা ট্রাফিক জ্যামের বদলে এখানে বয়ে চলেছে জলের ধারা, যা শহরের মূল যাতায়াত পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানকার জীবনযাত্রা ধীর ও শান্ত, যা অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে ভিন্ন।

অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের একটি উপহ্রদের মধ্যে অবস্থিত এই দ্বীপগুলোকে ৪০০-র বেশি সেতু একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। শত শত বছর আগে বহিরাগতদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে মানুষ এই লেগুন অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিল এবং সময়ের সাথে সাথে এটি ব্যবসা ও সংস্কৃতির এক প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। গাড়ি চলাচলের পথ না থাকায় জলপথকে কেন্দ্র করেই ভেনিসের অনন্য অবয়ব তৈরি হয়েছে।

এই শহরের প্রাণকেন্দ্র হলো এর বিস্তৃত খাল নেটওয়ার্ক। গ্র্যান্ড ক্যানাল ভেনিসের প্রধান জলপথ, যার দুই ধারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ভবন, গির্জা ও রাজপ্রাসাদ। ভেনিসবাসীর দৈনন্দিন জীবন এবং পণ্য আনা-নেওয়ার মূল বাহন নৌকা। সাধারণ মানুষ ‘ভাপোরেত্তো’ নামের ওয়াটার বাস এবং ওয়াটার ট্যাক্সি ব্যবহার করেন। পর্যটকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী ‘গন্ডোলা’ নৌকায় চড়ে ছোট ছোট খাল ঘুরে দেখা এক বিশেষ আকর্ষণ।

ভেনিস শুধু তার ভৌগোলিক অবস্থানের জন্যই নয়, বরং স্থাপত্য, শিল্পকলা এবং সাংস্কৃতিক ইতিহাসের জন্যও ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এখানকার সেন্ট মার্কস ব্যাসিলিকা, রিয়ালতো ব্রিজ এবং ডোগেস প্যালেস প্রতিবছর লাখ লাখ দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। ভেনিস ভ্রমণের সেরা সময় এপ্রিল থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস। আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা ভেনিস মার্কো পোলো বিমানবন্দর অথবা ইউরোপের অন্য শহর থেকে ট্রেনে চড়ে সরাসরি ভেনিস সান্টা লুচিয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাতে পারেন। ১১৮টি দ্বীপের ওপর কাঠের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই শতাব্দী প্রাচীন শহরটি এক ভিন্নধর্মী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেয়।