রাজধানীর আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এই শাস্তি যথেষ্ট কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেছেন, এত কম অর্থদণ্ড দিয়ে বিষয়টির সমাপ্তি টানা হলে সমাজে প্রয়োজনীয় বার্তা যাবে না। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বা অবহেলার কারণে মানুষের যে ক্ষতি হয়, তার জন্য আরও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। মানুষের জীবনের চেয়ে মুনাফা বড় হয়ে উঠলে এমন ঘটনাই ঘটতে থাকে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিনও একই মত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অব্যবস্থাপনার শাস্তি ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে শেষ করার বিষয় নয়। এই অবহেলার কারণে যদি শিশু মৃত্যু হয়ে থাকে অথবা রোগীদের কোনও ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে বিচার আরও কঠোর হবে বলে আশা করি।” তিনি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই অব্যবস্থাপনার সঙ্গে শিশুদের মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র থাকলে কঠোরতম শাস্তির দাবি করেছেন।
সোমবার (৩১ মে) বিকালে ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ মোবাইল কোর্টে আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে হাসপাতালটির ক্যান্টিন, রান্নাঘর ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে।
মোবাইল কোর্টের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, হাসপাতালের ক্যান্টিনের ফ্রিজে লেবেলবিহীন ও জমাটবদ্ধ বাসি মিষ্টি রাখা হয়েছে। এছাড়া রান্নাঘরের পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর। বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব এবং হাসপাতালের রেফ্রিজারেটরে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র না থাকার বিষয়টিও ধরা পড়ে। এসব অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১ লাখ টাকা এবং নিরাপদ খাদ্য আইনে ২ লাখ টাকা, মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 










