স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে সমাজের সব স্তরের মানুষ অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে। একসময় যা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) চলতি মে মাসে অনলাইন জুয়া ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিস্তারকে ‘নতুন ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সংস্থাটির প্রকাশিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মনিটরিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মাসে অনলাইন জুয়ার ঘটনায় একজনের মৃত্যু এবং পাঁচজন গ্রেফতার হয়েছেন। একই সময়ে মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় চারজন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ১৫ জন আটক হয়েছেন।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু অপরাধের ঘটনা এই প্রতিবেদনের সত্যতা তুলে ধরেছে। অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং খুন, আত্মহত্যা ও সহিংস অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৫ এপ্রিল ঢাকার ধামরাইয়ে জুয়ার ঋণ শোধ করতে না পেরে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হত্যা করে তার স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এর আগে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে এক যুবক নিজের বাবা-মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। রাজধানীর কলাবাগানে জুয়ার টাকার জন্য পরিবারের সঙ্গে বিরোধের জেরে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও আলোড়ন সৃষ্টি করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে প্রতারণা, সাইবার অপরাধ, চুরি, ছিনতাই এবং পারিবারিক সহিংসতার মতো অপরাধের সম্পর্ক ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে বাস-ট্রাকের চালক-হেলপার, সিএনজি চালক এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দিনের বড় একটি সময় অনলাইনে বাজি ধরে কাটাচ্ছেন।
প্রাথমিকভাবে ‘ফ্রি বোনাস’, ‘গ্যারান্টি জয়’ বা ‘প্রথম ডিপোজিটে দ্বিগুণ টাকা’র মতো অফার দিয়ে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করা হয়। প্রথম দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু টাকা জিতিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়, যা দ্রুত আসক্তি তৈরি করে। পরবর্তীতে বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। পুলিশের সাইবার টিমগুলো জুয়ার সাইট বন্ধে সতর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে, তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























