গোপালগঞ্জে ২০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শফিকুল মোল্লা (২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপালগঞ্জ শহরতলির বিসিক শিল্প নগরীর ‘মধুমতি বেকারি’র দোতলায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৯ মে) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বিসিক ব্রিজ মোড় সংলগ্ন মধুমতি বেকারির দ্বিতীয় তলায় ২০ টাকার লোভ দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই শিশুকে নিয়ে নির্যাতন করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ভুক্তভোগী শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠায় এবং অভিযুক্তকে আটক করে।
গ্রেফতারকৃত শফিকুল মোল্লা বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার ভান্ডারখোলা গ্রামের সিদ্দিক মোল্লার ছেলে এবং মধুমতি বেকারির কর্মচারী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার পর শিশুটি তার বাসার কাছাকাছি থানাপাড়া এলাকায় দাদার বাসায় যাচ্ছিল। পথে বিসিক ব্রিজের ওপর থেকে তাকে টাকা ও খাবারের লোভ দেখিয়ে ডেকে নেয় শফিকুল। পরে মধুমতি বেকারির দোতলায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় শিশুটি চিৎকার করতে গেলে শফিকুল তার মুখে বালিশ চাপা দেয়।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, ‘আমার ছেলে বাসা থেকে পাশেই তার দাদার বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় শফিকুল আমার ছেলের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে। আমি তার কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।’ গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যার আগে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অসুস্থ শিশুটিকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আসামি শফিকুল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার (৩০ মে) বিকালে আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’
রিপোর্টারের নাম 




















