ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

নামাজে বিঘ্ন সৃষ্টি ও মাইকে গান বাজানোয় বাধা দেওয়ায় আলেমকে পিটিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মাগরিবের নামাজের সময় মাইকে উচ্চস্বরে গান বাজানোয় বাধা দেওয়ায় এক মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের সাবেক ইমামকে রড দিয়ে পিটিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় সাইফুর রহমান ঢালী নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মাওলানা ইউসুফ আলীর পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। চিকিৎসকদের মতে, রডের আঘাতে মাওলানা ইউসুফ আলীর ডান চোখে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গত শুক্রবার (২৯ মে) মাগরিবের নামাজের সময় গফরগাঁওয়ের পুখুরিয়া হুদা মহিউসসুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা ইউসুফ আলীকে মাইকে উচ্চস্বরে গান বাজাতে নিষেধ করায় সাইফুর রহমান ঢালী রড দিয়ে পিটিয়ে তার চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এ সময় তার মাথায়ও আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ওই রাতেই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মাওলানা ইউসুফ আলী জানান, মাগরিবের নামাজ চলাকালীন মসজিদের পাশে একটি মেলায় উচ্চস্বরে গান বাজানো হচ্ছিল। নামাজ শেষে তিনি সাইফুর রহমানকে গান বাজানোয় বাধা দেন এবং বলেন যে উচ্চস্বরে গান বাজালে নামাজের ব্যাঘাত ঘটে। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সাইফুর রহমান ঢালী পাশের দোকান থেকে রড এনে তার চোখে সজোরে আঘাত করেন এবং চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এছাড়াও তিনি মাথায়ও আঘাত করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তিনি প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছেন, ডান চোখের উপরের ও নিচের পাতা ছিঁড়ে গেছে এবং ভেতরেও ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বর্তমানে ডান চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

মাওলানা ইউসুফ আলীর ছোট ভাই ইউনুস আলী বলেন, তার বড় ভাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এবং তার চারটি সন্তান ও বাবা-মা রয়েছে। ভাইয়ের চোখের বড় ধরনের ক্ষতি হলে পরিবারের উপর বিশাল ধকল আসবে। তিনি দোষীর কঠোর শাস্তি কামনা করেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী হুরমুজ আলী জানান, মাওলানা ইউসুফ আলী একজন ভালো মানুষ ও শিক্ষক ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

নামাজে বিঘ্ন সৃষ্টি ও মাইকে গান বাজানোয় বাধা দেওয়ায় আলেমকে পিটিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা

আপডেট সময় : ০৫:২০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মাগরিবের নামাজের সময় মাইকে উচ্চস্বরে গান বাজানোয় বাধা দেওয়ায় এক মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের সাবেক ইমামকে রড দিয়ে পিটিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় সাইফুর রহমান ঢালী নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মাওলানা ইউসুফ আলীর পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। চিকিৎসকদের মতে, রডের আঘাতে মাওলানা ইউসুফ আলীর ডান চোখে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গত শুক্রবার (২৯ মে) মাগরিবের নামাজের সময় গফরগাঁওয়ের পুখুরিয়া হুদা মহিউসসুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা ইউসুফ আলীকে মাইকে উচ্চস্বরে গান বাজাতে নিষেধ করায় সাইফুর রহমান ঢালী রড দিয়ে পিটিয়ে তার চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এ সময় তার মাথায়ও আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ওই রাতেই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মাওলানা ইউসুফ আলী জানান, মাগরিবের নামাজ চলাকালীন মসজিদের পাশে একটি মেলায় উচ্চস্বরে গান বাজানো হচ্ছিল। নামাজ শেষে তিনি সাইফুর রহমানকে গান বাজানোয় বাধা দেন এবং বলেন যে উচ্চস্বরে গান বাজালে নামাজের ব্যাঘাত ঘটে। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সাইফুর রহমান ঢালী পাশের দোকান থেকে রড এনে তার চোখে সজোরে আঘাত করেন এবং চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এছাড়াও তিনি মাথায়ও আঘাত করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তিনি প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছেন, ডান চোখের উপরের ও নিচের পাতা ছিঁড়ে গেছে এবং ভেতরেও ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বর্তমানে ডান চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

মাওলানা ইউসুফ আলীর ছোট ভাই ইউনুস আলী বলেন, তার বড় ভাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এবং তার চারটি সন্তান ও বাবা-মা রয়েছে। ভাইয়ের চোখের বড় ধরনের ক্ষতি হলে পরিবারের উপর বিশাল ধকল আসবে। তিনি দোষীর কঠোর শাস্তি কামনা করেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী হুরমুজ আলী জানান, মাওলানা ইউসুফ আলী একজন ভালো মানুষ ও শিক্ষক ছিলেন।