গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। সরকারের ১৮০ দিনের পথনকশার ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে সম্প্রতি। যদিও মন্ত্রিসভা কিছু ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তবে সামগ্রিকভাবে এই সময়কালের সূচনাকে আশা ব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ১০০ দিনে সরকার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য মাসিক ভাতা, গ্রাম পর্যায়ে খাল খনন, তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, সংসদ সদস্যদের করমুক্ত গাড়ির সুবিধা গ্রহণ না করা এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মিতব্যয়িতা অবলম্বন। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বেশিরভাগ পদক্ষেপই ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য এখনও অধরা থাকলেও, সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন সেগুলোও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দীর্ঘ দুঃশাসন, অব্যবস্থাপনা এবং ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। তা সত্ত্বেও, একশ দিনের মধ্যে প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে। কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে সেগুলো কাটিয়ে আশা করি, আগামী দিনগুলোতে পথচলা আরও বাস্তবভিত্তিক হবে। এ জন্য সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’
অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত ও সংকট নিরসনের পরিকল্পনা:
সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের সূচনা করেন। এর মধ্যে তিনটি বিষয়কে তিনি সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছেন: নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। তবে এই তিনটি ক্ষেত্রেই অগ্রগতি এখনও পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়নি। এছাড়া, হামসহ বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত বিষয় মোকাবিলায় সরকারকে বেগ পোহাতে হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় সরকার বেশ কিছু পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।
অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্য:
সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের উত্তরাধিকার ছিল ভয়াবহ। উচ্চ সরকারি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকিং খাত এবং বিনিয়োগ খরা নিয়েই সরকার যাত্রা শুরু করে। যদিও ২০২৫ সালের বেশিরভাগ সময় মূল্যস্ফীতি ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকার পূর্বাভাস ছিল, তবে মার্চ মাসে তা কিছুটা কমে আসে। কিন্তু এপ্রিলে তা আবার ৯ শতাংশের উপরে উঠে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ এবং নির্দিষ্ট আয়ের জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হয়েছে। এরপর আসে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করে।
রিপোর্টারের নাম 



















