ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নতুন সরকার কি পারবে জটিল সংকট কাটিয়ে উঠতে?

একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। যদিও নির্বাচন নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে, তবুও মানুষ ভোট দিতে পেরেছে এবং দীর্ঘদিন পর সেই সুযোগ ঘটেছে, যা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। সরকারকে স্বাগত জানানো হচ্ছে এবং তাদের সফলতা কামনা করা হচ্ছে।

তবে সরকারকে একটি অত্যন্ত জটিল সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি খাতে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাব দেশের অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং নাগরিক জীবনের ওপর পড়বে। এই বাস্তবতা সরকারের জন্য একটি অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে, যার জন্য হয়তো পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। এখন এই নতুন বাস্তবতা মাথায় রেখেই সরকারকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

সরকার কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে, যার মাধ্যমে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। কিন্তু একই সঙ্গে কিছু বিষয়ে তাদের অনীহাও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে গণভোটে পাস হওয়া কিছু সংস্কার এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা যথেষ্ট গুরুত্ব দেখায়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনীহা দেখা গেছে। আরও উদ্বেগজনক হলো— অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩০টি অধ্যাদেশের মধ্যে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সরকার অনুমোদন করেনি। এর মধ্যে ছিল বন আইন, মানবাধিকার, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় এবং বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ। এসব বিষয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল, এমনকি ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহার এবং একুশ দফাতেও এসব প্রতিশ্রুতি ছিল। যদিও তারা বলেছে— ভবিষ্যতে আরও উন্নত আইন প্রণয়ন করা হবে, কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার সুযোগ দেয় না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে বহু দশক ধরে শুধু প্রতিশ্রুতিই শোনা যাচ্ছে, বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

গণতন্ত্র শুধু সংসদ নির্বাচন নয়, গণতন্ত্র মানে সর্বস্তরে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসন। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন—সব জায়গায় নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা সাংবিধানিক আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সরকার নির্বাচন না করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে দলীয় বা নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে, যা হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার মানের অবনতির একটি বড় কারণ শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়াকাটায় বেরিবাঁধ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ: জননিরাপত্তা ও সরকারি সম্পত্তি নিয়ে উদ্বেগ

নতুন সরকার কি পারবে জটিল সংকট কাটিয়ে উঠতে?

আপডেট সময় : ১২:২১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। যদিও নির্বাচন নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে, তবুও মানুষ ভোট দিতে পেরেছে এবং দীর্ঘদিন পর সেই সুযোগ ঘটেছে, যা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। সরকারকে স্বাগত জানানো হচ্ছে এবং তাদের সফলতা কামনা করা হচ্ছে।

তবে সরকারকে একটি অত্যন্ত জটিল সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি খাতে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাব দেশের অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং নাগরিক জীবনের ওপর পড়বে। এই বাস্তবতা সরকারের জন্য একটি অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে, যার জন্য হয়তো পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। এখন এই নতুন বাস্তবতা মাথায় রেখেই সরকারকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

সরকার কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে, যার মাধ্যমে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। কিন্তু একই সঙ্গে কিছু বিষয়ে তাদের অনীহাও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে গণভোটে পাস হওয়া কিছু সংস্কার এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা যথেষ্ট গুরুত্ব দেখায়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনীহা দেখা গেছে। আরও উদ্বেগজনক হলো— অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩০টি অধ্যাদেশের মধ্যে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সরকার অনুমোদন করেনি। এর মধ্যে ছিল বন আইন, মানবাধিকার, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় এবং বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ। এসব বিষয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল, এমনকি ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহার এবং একুশ দফাতেও এসব প্রতিশ্রুতি ছিল। যদিও তারা বলেছে— ভবিষ্যতে আরও উন্নত আইন প্রণয়ন করা হবে, কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার সুযোগ দেয় না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে বহু দশক ধরে শুধু প্রতিশ্রুতিই শোনা যাচ্ছে, বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

গণতন্ত্র শুধু সংসদ নির্বাচন নয়, গণতন্ত্র মানে সর্বস্তরে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসন। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন—সব জায়গায় নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা সাংবিধানিক আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সরকার নির্বাচন না করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে দলীয় বা নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে, যা হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার মানের অবনতির একটি বড় কারণ শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ…