একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সরকার গঠনের ১০০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংসদে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই ১০০ দিনে সংসদে ও সংসদের বাইরে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা, ওয়াকআউট, বিবৃতি এবং নানা ইস্যুতে অবস্থান তুলে ধরলেও বড় কোনো সংঘাতমুখী কর্মসূচিতে যায়নি দল দুটি। বিরোধীদল হিসেবে জামায়াত-এনসিপির ভূমিকা, অবস্থান ও রাজনৈতিক কৌশল কেমন ছিল, তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান যে, জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে তারা নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবেন। তবে একটি আদর্শিক বিরোধীদল হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে তারা আপসহীন থাকবেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে তাদের সমর্থন থাকবে, কিন্তু যেখানেই জবাবদিহির প্রয়োজন হবে, সেখানে তারা সোচ্চার থাকবেন। তাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয়, বরং সংশোধন; বাধা দেওয়া নয়, বরং পর্যবেক্ষণ। দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে।
তবে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ এবং তিনবার ওয়াকআউট করে বিরোধীদল হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে জামায়াত-এনসিপি। এছাড়া সরকার গঠনের পর দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, খুন-ধর্ষণ, মব সৃষ্টি করে হামলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে বিরোধীদল। সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগে সরকারের দলীয়করণেরও সমালোচনা করেছে তারা।
রিপোর্টারের নাম 



















