বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনায় ‘কিচেন কেবিনেট’ শব্দটি নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনায় একটি অনানুষ্ঠানিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সক্রিয়তার অভিযোগ ওঠার পর এটি জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম. তৌহিদ হোসেন দাবি করেছেন, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ থেকে আসত এবং তারা নিয়মিত বৈঠক করতেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এমন অভিযোগ উঠেছে।
‘কিচেন কেবিনেট’ শব্দটির উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রে। উনিশ শতকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসন’র শাসনামলে এই শব্দটি প্রথম আলোচনায় আসে। তৎকালীন সময়ে জ্যাকসনের আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার বাইরে কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতেন। সমালোচকরা ব্যঙ্গ করে বলতেন, তারা যেন রান্নাঘরের দরজা দিয়ে এসে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখছেন। সেখান থেকেই ‘কিচেন কেবিনেট’ শব্দটির প্রচলন। পরবর্তীকালে রাজনীতিতে শব্দটি এমন একটি অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা গোষ্ঠী বোঝাতে ব্যবহৃত হতে থাকে, যারা সরকারি কাঠামোর বাইরে থেকেও ক্ষমতার কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক বা প্রশাসনিক কাঠামোয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সাধারণত নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া থাকে—যেমন মন্ত্রিসভা, উপদেষ্টা পরিষদ, সংসদীয় কমিটি বা প্রশাসনিক বৈঠক। তবে যখন আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে থাকা ছোট কোনো গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘কিচেন কেবিনেট’ সবসময় অবৈধ বা ষড়যন্ত্রমূলক কিছু বোঝায় না। অনেক সময় সরকারপ্রধানরা আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরেও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন। তবে সেই অনানুষ্ঠানিক পরামর্শ যদি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত প্রভাব ফেলে, তখন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারকে ঘিরে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাবেক উপদেষ্টা এবং বিশ্লেষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে—কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়মিত…
রিপোর্টারের নাম 





















