ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু: সাতক্ষীরার সাবেক পিপি আব্দুল লতিফ

সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এবং আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। রবিবার (২৪ মে) দিনগত রাত ৩টার দিকে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুকে ব্যথা অনুভব করায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। রাত ৪টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান বলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ত্রিদিব দেবনাথ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের কর্মকর্তা মনির হোসেন আব্দুল লতিফের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়শা গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে ছিলেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেলকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি পিপি থাকাকালীন আদালতপাড়া নিয়ন্ত্রণ, ভারতীয় গরু ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতা মামলা এবং তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকে তারা গ্রেফতার এড়াতে খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন।

পারিবারিকভাবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ দীর্ঘদিন ধরে শহরের রসুলপুর এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখানে তার একটি পাঁচতলা ভবন ছিল। আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি উকিল কমিশনের মাধ্যমে ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছিলেন। অবশিষ্ট ফ্ল্যাটগুলো রেজিস্ট্রি করার জন্য তিনি সাতক্ষীরায় আসতে পারছিলেন না। ফলে, সাব-রেজিস্ট্রারকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে খুলনার বয়রা এলাকায় নিয়ে দলিল সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেন। এই কাজের দায়িত্বে ছিলেন সাতক্ষীরা সদর দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল ইসলাম। ১২ ডিসেম্বর সকালে সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখক খুলনার বয়রায় পৌঁছালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সেখানে অভিযান চালায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান চুক্তি: ট্রাম্পের ঘোষণা সত্ত্বেও কর্মসূচিতে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের অনুপস্থিতি

কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু: সাতক্ষীরার সাবেক পিপি আব্দুল লতিফ

আপডেট সময় : ০২:১৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এবং আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। রবিবার (২৪ মে) দিনগত রাত ৩টার দিকে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুকে ব্যথা অনুভব করায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। রাত ৪টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান বলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ত্রিদিব দেবনাথ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের কর্মকর্তা মনির হোসেন আব্দুল লতিফের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়শা গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে ছিলেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেলকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি পিপি থাকাকালীন আদালতপাড়া নিয়ন্ত্রণ, ভারতীয় গরু ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতা মামলা এবং তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকে তারা গ্রেফতার এড়াতে খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন।

পারিবারিকভাবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ দীর্ঘদিন ধরে শহরের রসুলপুর এলাকায় বসবাস করতেন এবং সেখানে তার একটি পাঁচতলা ভবন ছিল। আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি উকিল কমিশনের মাধ্যমে ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছিলেন। অবশিষ্ট ফ্ল্যাটগুলো রেজিস্ট্রি করার জন্য তিনি সাতক্ষীরায় আসতে পারছিলেন না। ফলে, সাব-রেজিস্ট্রারকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে খুলনার বয়রা এলাকায় নিয়ে দলিল সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেন। এই কাজের দায়িত্বে ছিলেন সাতক্ষীরা সদর দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল ইসলাম। ১২ ডিসেম্বর সকালে সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখক খুলনার বয়রায় পৌঁছালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সেখানে অভিযান চালায়।