ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংস বিতর্ক: সাম্প্রদায়িক রাজনীতির নতুন মোড়

মুসলমানদের ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী কোরবানির ঈদে গরু কোরবানি দেওয়া এবং গরুর মাংস খাওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কোরবানি ও গরুর মাংস নিয়ে যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, তা অনেক মুসলমানের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের এই ‘মাংসের রাজনীতি’ এখন কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, বরং এটি ভারত-বাংলাদেশ অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক বাস্তবতার প্রতিফলন। দুই দেশের ধর্মীয় আবেগ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত, যা উগ্রবাদকে পুষ্ট করে চলেছে।

বাংলাদেশে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। একই প্রবণতা এখন ভারতেও স্পষ্ট হচ্ছে, বিশেষ করে বিজেপির উত্থান এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রসারের ফলে দেশটির সামাজিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ‘মাংসের রাজনীতি’ সেই পরিবর্তনেরই একটি প্রকাশ। এটি কেবল কোরবানি বা গরু জবাইয়ের বিতর্ক মনে হলেও, এর গভীরে রয়েছে রাষ্ট্র, ধর্ম ও সামাজিক সহাবস্থানের সংকট।

ভারতের সংবিধান কাগজে-কলমে ধর্মনিরপেক্ষ হলেও, গত দেড় দশকে দেশটির রাজনৈতিক ভাষা ক্রমেই ধর্মীয় পরিচয়নির্ভর হয়ে উঠেছে। ‘গো-রক্ষা’, ‘লাভ জিহাদ’, ‘ঘর ওয়াপসি’, ‘দেশদ্রোহী’, ‘পাকিস্তানের দালাল’—এই শব্দগুলো এখন কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং সামাজিক বিভাজনের অস্ত্র। বজরং দল, আরএসএস বা উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরুর মাংস রাখা বা পরিবহনের অভিযোগে, এমনকি কেবল মুসলিম পরিচয়ের কারণেও মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। উত্তর প্রদেশের দাদরিতে আখলাক হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড, হরিয়ানার বহু ঘটনা আজও মানুষের মনে আতঙ্কের স্মৃতি হয়ে আছে।

এই ধরনের ঘটনাগুলো এখন আর বিচ্ছিন্ন সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং এগুলো ধীরে ধীরে এক ধরনের সামাজিক স্বাভাবিকতায় পরিণত হচ্ছে। ঘটনা ঘটার পর রাষ্ট্র তদন্ত করে, ক্ষোভ প্রকাশ করে, কিন্তু এর মধ্যেই সমাজে ভয় ও বিভাজনের বীজ বপন হয়ে যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্ক যেন জাহ্নবীর নিত্যসঙ্গী

পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংস বিতর্ক: সাম্প্রদায়িক রাজনীতির নতুন মোড়

আপডেট সময় : ১২:১২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

মুসলমানদের ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী কোরবানির ঈদে গরু কোরবানি দেওয়া এবং গরুর মাংস খাওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কোরবানি ও গরুর মাংস নিয়ে যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, তা অনেক মুসলমানের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের এই ‘মাংসের রাজনীতি’ এখন কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, বরং এটি ভারত-বাংলাদেশ অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক বাস্তবতার প্রতিফলন। দুই দেশের ধর্মীয় আবেগ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত, যা উগ্রবাদকে পুষ্ট করে চলেছে।

বাংলাদেশে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। একই প্রবণতা এখন ভারতেও স্পষ্ট হচ্ছে, বিশেষ করে বিজেপির উত্থান এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রসারের ফলে দেশটির সামাজিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ‘মাংসের রাজনীতি’ সেই পরিবর্তনেরই একটি প্রকাশ। এটি কেবল কোরবানি বা গরু জবাইয়ের বিতর্ক মনে হলেও, এর গভীরে রয়েছে রাষ্ট্র, ধর্ম ও সামাজিক সহাবস্থানের সংকট।

ভারতের সংবিধান কাগজে-কলমে ধর্মনিরপেক্ষ হলেও, গত দেড় দশকে দেশটির রাজনৈতিক ভাষা ক্রমেই ধর্মীয় পরিচয়নির্ভর হয়ে উঠেছে। ‘গো-রক্ষা’, ‘লাভ জিহাদ’, ‘ঘর ওয়াপসি’, ‘দেশদ্রোহী’, ‘পাকিস্তানের দালাল’—এই শব্দগুলো এখন কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং সামাজিক বিভাজনের অস্ত্র। বজরং দল, আরএসএস বা উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরুর মাংস রাখা বা পরিবহনের অভিযোগে, এমনকি কেবল মুসলিম পরিচয়ের কারণেও মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। উত্তর প্রদেশের দাদরিতে আখলাক হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড, হরিয়ানার বহু ঘটনা আজও মানুষের মনে আতঙ্কের স্মৃতি হয়ে আছে।

এই ধরনের ঘটনাগুলো এখন আর বিচ্ছিন্ন সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং এগুলো ধীরে ধীরে এক ধরনের সামাজিক স্বাভাবিকতায় পরিণত হচ্ছে। ঘটনা ঘটার পর রাষ্ট্র তদন্ত করে, ক্ষোভ প্রকাশ করে, কিন্তু এর মধ্যেই সমাজে ভয় ও বিভাজনের বীজ বপন হয়ে যায়।