বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা (১৭ শতাংশ) থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা (২১ শতাংশ) পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে; তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দাম মূলত ১৮ থেকে ২০ শতাংশের কাছাকাছি বাড়তে পারে।
বিপিডিবির হিসাব মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের সম্ভাব্য উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা, যেখানে প্রতি ইউনিটের উৎপাদন ব্যয় পড়বে প্রায় ১২ টাকা ৯১ পয়সা।
বিদ্যমান পাইকারি মূল্যে বিদ্যুৎ বিক্রি করলে সরকারের ঘাটতি বা লোকসান দাঁড়াবে প্রায় ৬৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা সামাল দিতেই এই মূল্যবৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের দর বেড়ে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হলেও বিশেষজ্ঞরা বরাবরের মতোই খাতটির দুর্নীতি, অনিয়ম ও অসম চুক্তিকে দায়ী করে আসছেন। এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দর ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ০৪ পয়সা করা হয়েছিল।
পাইকারি দাম বাড়ার আশঙ্কার পাশাপাশি দেশের সবকটি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাই লোকসান ঠেকাতে গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর সমান্তরাল আবেদন জানিয়েছে। ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো) বিগত কয়েক অর্থবছরের পুঞ্জীভূত লোকসান সামাল দিতে খুচরা পর্যায়ে ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ দাম বাড়ানোর দাবি করেছে।
অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) জানিয়েছে যে তাদের ৮০টি সমিতি গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে এবং এবার গ্রাহক পর্যায়ে দাম না বাড়লে লোকসানের পরিমাণ ২ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকায় ঠেকবে; তাই তারা ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে। এছাড়া ওজোপাডিকো ১০ শতাংশ এবং দেশের একমাত্র সঞ্চালন কোম্পানি পিজিসিবি সঞ্চালন চার্জ প্রতি ইউনিটে প্রায় ৩০-৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৮-৪৯ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদেশ জারির জন্য কাজ চলছে, যার ফলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের বিলের বোঝা আরও বাড়ছে—তা এখন অনেকটাই নিশ্চিত।
রিপোর্টারের নাম 





















