ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

শর্ত শিথিল করে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের নতুন তোড়জোড়

২০২৪ সালের বিডিং রাউন্ডে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানিই দরপত্র জমা দেয়নি। সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার ২৬টি ব্লক উন্মুক্ত করে নতুন অফশোর দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এবারের রাউন্ডকে সফল করতে সরকার গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, মুনাফা প্রত্যাবাসন, পাইপলাইনের খরচ এবং রপ্তানি নীতিতে বেশ কিছু বড় ধরনের শর্ত শিথিল করেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের প্রতি আস্থার কারণে ইতোমধ্যে আমেরিকা ও চীনের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো যোগাযোগ শুরু করেছে এবং এবারের বিডিং রাউন্ড বড় ধরনের সাড়া ফেলবে। জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও নিশ্চিত করেছেন যে, পূর্ববর্তী কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তথ্য-উপাত্ত ও গ্যাসের মূল্যে পরিবর্তন আনায় এবার বিদেশি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে।

তবে এই নতুন উদ্যোগের মধ্যেও বেশ কিছু কাঠামোগত জটিলতা ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী কোম্পানির লাভের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলে (WPPF) দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তা নিয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোর তীব্র আপত্তি রয়েছে এবং তারা এটি আরও কমানোর দাবি জানাচ্ছে, যা একটি আইনি জটিলতা তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, সাগর থেকে গ্যাস উত্তোলন করা জরুরি হলেও এর উৎপাদন ব্যয় যেন আমদানিকৃত এলএনজি-র চেয়ে বেশি না হয়ে যায়। তিনি সতর্ক করেন যে, চুক্তি করার সময় সতর্ক না থাকলে দেশীয় গ্যাসের দাম আদানির বিদ্যুতের মতো গলার কাঁটা বা আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই এবারের দরপত্রে বাংলাদেশ সত্যি আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নির্ভর করছে সঠিক ও লাভজনক চুক্তি সম্পাদনের ওপর।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের প্রথম দিনেই সাভার ট্যানারিতে প্রবেশ করলো ২ লক্ষাধিক কাঁচা চামড়া

শর্ত শিথিল করে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের নতুন তোড়জোড়

আপডেট সময় : ১১:০০:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

২০২৪ সালের বিডিং রাউন্ডে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানিই দরপত্র জমা দেয়নি। সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার ২৬টি ব্লক উন্মুক্ত করে নতুন অফশোর দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এবারের রাউন্ডকে সফল করতে সরকার গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, মুনাফা প্রত্যাবাসন, পাইপলাইনের খরচ এবং রপ্তানি নীতিতে বেশ কিছু বড় ধরনের শর্ত শিথিল করেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের প্রতি আস্থার কারণে ইতোমধ্যে আমেরিকা ও চীনের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো যোগাযোগ শুরু করেছে এবং এবারের বিডিং রাউন্ড বড় ধরনের সাড়া ফেলবে। জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও নিশ্চিত করেছেন যে, পূর্ববর্তী কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তথ্য-উপাত্ত ও গ্যাসের মূল্যে পরিবর্তন আনায় এবার বিদেশি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে।

তবে এই নতুন উদ্যোগের মধ্যেও বেশ কিছু কাঠামোগত জটিলতা ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী কোম্পানির লাভের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলে (WPPF) দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তা নিয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোর তীব্র আপত্তি রয়েছে এবং তারা এটি আরও কমানোর দাবি জানাচ্ছে, যা একটি আইনি জটিলতা তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, সাগর থেকে গ্যাস উত্তোলন করা জরুরি হলেও এর উৎপাদন ব্যয় যেন আমদানিকৃত এলএনজি-র চেয়ে বেশি না হয়ে যায়। তিনি সতর্ক করেন যে, চুক্তি করার সময় সতর্ক না থাকলে দেশীয় গ্যাসের দাম আদানির বিদ্যুতের মতো গলার কাঁটা বা আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই এবারের দরপত্রে বাংলাদেশ সত্যি আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নির্ভর করছে সঠিক ও লাভজনক চুক্তি সম্পাদনের ওপর।