ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

পাহাড় কেটে মানুষের তৈরি জলপথ: চীনের লিনচৌয়ের এক অবিশ্বাস্য গাথা

চীনের হ্যনান প্রদেশের লিনচৌ এলাকার মানুষের একসময় কষ্টের শেষ ছিল না। চারপাশে বৃষ্টি হলেও তাদের নিজেদের জমিতে খরায় মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যেত। ষাটের দশকে এই পানির কষ্ট দূর করতে ওখানকার মানুষ এক অসম্ভবকে সম্ভব করার সিদ্ধান্ত নেন, পাহাড় কেটে পানির খাল তৈরির কাজে নেমে পড়েন তারা।

আজকের দিনে শানসি প্রদেশ থেকে লিনচৌতে যে খাল দিয়ে পানি আসে, সেটির নাম ‘রেড ফ্ল্যাগ ক্যানাল’। থাইহাং পর্বতের খাড়া ঢাল বেয়ে প্রায় ৭১ কিলোমিটার জুড়ে খালটি সবুজাভ ফিতার মতো এঁকেবেঁকে চলে গেছে। সকালে যখন সূর্যের আলো এই খালের পানিতে পড়ে, তখন চারপাশের পাহাড়গুলো চমৎকারভাবে ঝলমলিয়ে ওঠে।

বহু বছর পর খালটি দেখতে এসে অনেকেই অবাক হয়ে যান। তখনকার অভিজ্ঞতা জানিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রে বলা হয়েছে, এলাকাটি খুব অনুন্নত ছিল। কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি, গাড়ি বা রেলপথ ছিল না। শুধু হাত আর পায়ের জোরে, আদিম সব সরঞ্জাম ব্যবহার করে লাখো মানুষ এক দশকেরও বেশি সময় নিয়ে খালটি খনন করেছিলেন।

দশক পার হয়ে গেছে। আজও দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এই খালের সবচেয়ে কঠিন অংশ ‘ইয়ুথ কেভ’ দেখতে আসেন। শ্রমিকদের হাত দিয়ে তৈরি করা পাথরের গর্তগুলোতে হাত দিয়ে তারা যেন ইতিহাসের সেই কঠিন সময়টাকে অনুভব করার চেষ্টা করেন।

পর্যটকরা চাইলে নৌকায় করে এই গুহার ভেতর দিয়ে যেতে পারেন, আবার খালের পাড় ধরে হেঁটেও মানুষের এই অবিশ্বাস্য পরিশ্রমের শক্তিকে কাছ থেকে অনুভব করতে পারেন।

এই গুহা থেকে ট্যাক্সিতে মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে ‘লৌওসি পুল’। এটি চৌচাং নদীর একটি গভীর জলাধার, যেখান থেকে মূলত এই খালে পানি আনা হয়।

বহু মানুষের ত্যাগে তৈরি খালটি এখন চীনের একটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির চামড়া অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, হতাশ বিক্রেতারা

পাহাড় কেটে মানুষের তৈরি জলপথ: চীনের লিনচৌয়ের এক অবিশ্বাস্য গাথা

আপডেট সময় : ০৮:০২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

চীনের হ্যনান প্রদেশের লিনচৌ এলাকার মানুষের একসময় কষ্টের শেষ ছিল না। চারপাশে বৃষ্টি হলেও তাদের নিজেদের জমিতে খরায় মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যেত। ষাটের দশকে এই পানির কষ্ট দূর করতে ওখানকার মানুষ এক অসম্ভবকে সম্ভব করার সিদ্ধান্ত নেন, পাহাড় কেটে পানির খাল তৈরির কাজে নেমে পড়েন তারা।

আজকের দিনে শানসি প্রদেশ থেকে লিনচৌতে যে খাল দিয়ে পানি আসে, সেটির নাম ‘রেড ফ্ল্যাগ ক্যানাল’। থাইহাং পর্বতের খাড়া ঢাল বেয়ে প্রায় ৭১ কিলোমিটার জুড়ে খালটি সবুজাভ ফিতার মতো এঁকেবেঁকে চলে গেছে। সকালে যখন সূর্যের আলো এই খালের পানিতে পড়ে, তখন চারপাশের পাহাড়গুলো চমৎকারভাবে ঝলমলিয়ে ওঠে।

বহু বছর পর খালটি দেখতে এসে অনেকেই অবাক হয়ে যান। তখনকার অভিজ্ঞতা জানিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রে বলা হয়েছে, এলাকাটি খুব অনুন্নত ছিল। কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি, গাড়ি বা রেলপথ ছিল না। শুধু হাত আর পায়ের জোরে, আদিম সব সরঞ্জাম ব্যবহার করে লাখো মানুষ এক দশকেরও বেশি সময় নিয়ে খালটি খনন করেছিলেন।

দশক পার হয়ে গেছে। আজও দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এই খালের সবচেয়ে কঠিন অংশ ‘ইয়ুথ কেভ’ দেখতে আসেন। শ্রমিকদের হাত দিয়ে তৈরি করা পাথরের গর্তগুলোতে হাত দিয়ে তারা যেন ইতিহাসের সেই কঠিন সময়টাকে অনুভব করার চেষ্টা করেন।

পর্যটকরা চাইলে নৌকায় করে এই গুহার ভেতর দিয়ে যেতে পারেন, আবার খালের পাড় ধরে হেঁটেও মানুষের এই অবিশ্বাস্য পরিশ্রমের শক্তিকে কাছ থেকে অনুভব করতে পারেন।

এই গুহা থেকে ট্যাক্সিতে মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে ‘লৌওসি পুল’। এটি চৌচাং নদীর একটি গভীর জলাধার, যেখান থেকে মূলত এই খালে পানি আনা হয়।

বহু মানুষের ত্যাগে তৈরি খালটি এখন চীনের একটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।