ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

শিশু রামিসা হত্যা: অভিযোগপত্রে ধর্ষণ ও নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নিয়ে দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার (২৪ মে) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান তার অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, পল্লবীর একটি বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন রামিসার বাবা। পাশের একটি ফ্ল্যাটে অটোরিকশা মেকানিক সোহেল রানা তার স্ত্রী স্বপ্নার সাথে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার দিন সকালে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল তাকে তার কক্ষে ডেকে নেয়। সেখানে নিয়ে ধর্ষণের পর শিশুটি চিৎকার করলে শ্বাসরোধে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন করে। এরপর মরদেহ বাথরুম থেকে শোবার ঘরে এনে খাটের নিচে রাখে এবং যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। বিচ্ছিন্ন মাথা একটি বালতিতে রাখা হয়।

রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তার মা সোহেলদের বাসার সামনে একটি স্যান্ডেল দেখতে পান এবং দরজায় ধাক্কা দিয়ে চিৎকার করতে থাকেন। অন্যান্য ভাড়াটেরা দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে সোহেল মরদেহ বাথরুম থেকে রুমে নিয়ে আসে। এ সময় স্বপ্না মরদেহ দেখে। দরজা ভাঙার শব্দ শুনে স্বপ্না ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। পরে লোকজন রুমে ঢুকে রামিসার লাশ দেখতে পায়। সোহেলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপ্না জানায়, সে গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে। অভিযোগপত্রে আরও উঠে এসেছে যে, সোহেল ও স্বপ্নার মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল এবং তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সোহেলের প্রথম ঘরে একটি মেয়েও রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান চুক্তি: ট্রাম্পের ঘোষণা সত্ত্বেও কর্মসূচিতে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের অনুপস্থিতি

শিশু রামিসা হত্যা: অভিযোগপত্রে ধর্ষণ ও নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র

আপডেট সময় : ১২:৫৫:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নিয়ে দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার (২৪ মে) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান তার অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, পল্লবীর একটি বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন রামিসার বাবা। পাশের একটি ফ্ল্যাটে অটোরিকশা মেকানিক সোহেল রানা তার স্ত্রী স্বপ্নার সাথে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার দিন সকালে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল তাকে তার কক্ষে ডেকে নেয়। সেখানে নিয়ে ধর্ষণের পর শিশুটি চিৎকার করলে শ্বাসরোধে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন করে। এরপর মরদেহ বাথরুম থেকে শোবার ঘরে এনে খাটের নিচে রাখে এবং যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। বিচ্ছিন্ন মাথা একটি বালতিতে রাখা হয়।

রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তার মা সোহেলদের বাসার সামনে একটি স্যান্ডেল দেখতে পান এবং দরজায় ধাক্কা দিয়ে চিৎকার করতে থাকেন। অন্যান্য ভাড়াটেরা দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে সোহেল মরদেহ বাথরুম থেকে রুমে নিয়ে আসে। এ সময় স্বপ্না মরদেহ দেখে। দরজা ভাঙার শব্দ শুনে স্বপ্না ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। পরে লোকজন রুমে ঢুকে রামিসার লাশ দেখতে পায়। সোহেলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপ্না জানায়, সে গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে। অভিযোগপত্রে আরও উঠে এসেছে যে, সোহেল ও স্বপ্নার মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল এবং তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সোহেলের প্রথম ঘরে একটি মেয়েও রয়েছে।