ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

হামে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেও মিলছে না বেড, স্বজনদের ভোগান্তি

হামে আক্রান্ত নয় মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসার আশায় ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় এসেও বেড না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরছেন পারভেজ হোসেন। শনিবার (২৩ মে) ঢাকায় পৌঁছানোর পর থেকে তিনি শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ইমার্জেন্সি বিভাগের সামনে রাত কাটিয়েছেন। রবিবার সকাল থেকেও একটি বেডের আশায় অপেক্ষা করছেন, যা নির্ভর করছে অন্য কোনো রোগীর ছাড়পত্রের উপর।

পারভেজ হোসেন জানান, হাম, জ্বর ও নিউমোনিয়া নিয়ে গতকালই তারা ঢাকায় এসেছেন। হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ পেলেও কোনো সিট খালি ছিল না। এরপর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঘুরেও কোথাও ভর্তি করাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে প্রায় ২০ দিন ছিলাম। সেখানে জ্বর, নিউমোনিয়া, হাম ও টাইফয়েড ধরা পড়ে। পরে রাজশাহী বা খুলনায় নেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর এই শিশু হাসপাতালে আসি। ভেবেছিলাম এখানে জায়গা পাব, কিন্তু পাইনি। সারারাত করিডোরেই ছিলাম।’

একই ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন কুষ্টিয়া থেকে আসা মাকসুদা হালিম। তিনি সাড়ে তিন মাস বয়সী নাতিকে নিয়ে এসেছেন, যার শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রয়েছে। মাকসুদা বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় ভর্তি ছিল, কিন্তু সেখানে আইসিইউ ছিল না। পরে গতকাল রাত ৯টায় ঢাকায় এসে শিশু হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে সিট পাইনি। আমাদের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। সেখানেও আইসিইউ খালি নেই বলে জানায়।’ তিনি আরও জানান, ঢাকা মেডিক্যাল থেকে বলা হয়, অক্সিজেনের অভাবে বাচ্চা মারা গেলে দায়ী থাকবে না—এমন লিখিত দিতে। পরে আবার শিশু হাসপাতালে ফিরে আসেন তারা।

ময়মনসিংহ থেকে আসা শারমিন শিলাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে মা-মেয়ের গণধর্ষণ: উদ্বেগ প্রকাশ আসকের

হামে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেও মিলছে না বেড, স্বজনদের ভোগান্তি

আপডেট সময় : ১১:৫২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

হামে আক্রান্ত নয় মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসার আশায় ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় এসেও বেড না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরছেন পারভেজ হোসেন। শনিবার (২৩ মে) ঢাকায় পৌঁছানোর পর থেকে তিনি শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ইমার্জেন্সি বিভাগের সামনে রাত কাটিয়েছেন। রবিবার সকাল থেকেও একটি বেডের আশায় অপেক্ষা করছেন, যা নির্ভর করছে অন্য কোনো রোগীর ছাড়পত্রের উপর।

পারভেজ হোসেন জানান, হাম, জ্বর ও নিউমোনিয়া নিয়ে গতকালই তারা ঢাকায় এসেছেন। হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ পেলেও কোনো সিট খালি ছিল না। এরপর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঘুরেও কোথাও ভর্তি করাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে প্রায় ২০ দিন ছিলাম। সেখানে জ্বর, নিউমোনিয়া, হাম ও টাইফয়েড ধরা পড়ে। পরে রাজশাহী বা খুলনায় নেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর এই শিশু হাসপাতালে আসি। ভেবেছিলাম এখানে জায়গা পাব, কিন্তু পাইনি। সারারাত করিডোরেই ছিলাম।’

একই ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন কুষ্টিয়া থেকে আসা মাকসুদা হালিম। তিনি সাড়ে তিন মাস বয়সী নাতিকে নিয়ে এসেছেন, যার শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রয়েছে। মাকসুদা বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় ভর্তি ছিল, কিন্তু সেখানে আইসিইউ ছিল না। পরে গতকাল রাত ৯টায় ঢাকায় এসে শিশু হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে সিট পাইনি। আমাদের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। সেখানেও আইসিইউ খালি নেই বলে জানায়।’ তিনি আরও জানান, ঢাকা মেডিক্যাল থেকে বলা হয়, অক্সিজেনের অভাবে বাচ্চা মারা গেলে দায়ী থাকবে না—এমন লিখিত দিতে। পরে আবার শিশু হাসপাতালে ফিরে আসেন তারা।

ময়মনসিংহ থেকে আসা শারমিন শিলাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।