রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা ব্যবস্থার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় না দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা করা হচ্ছে। ফলে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়ছে।
বর্তমানে ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, সোনারগাঁও মোড়, বাংলামোটর, বিজয় সরণি, জাহাঙ্গীর গেটসহ মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আধুনিক এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এআই ক্যামেরাগুলো মূলত ছয় ধরনের ট্রাফিক অপরাধ শনাক্ত করছে, যার মধ্যে রয়েছে—
- ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা
- জেব্রা ক্রসিং লঙ্ঘন
- উল্টো পথে গাড়ি চালানো
- নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করে চলাচল
- সড়ক ব্যবহারের অন্যান্য গুরুতর অনিয়ম
আইন ভঙ্গের সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোনে মামলার নোটিশ পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে চালকদের মধ্যে সচেতনতা ও সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে এই প্রযুক্তির সফলতার মাঝেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অন্যান্য অনিবন্ধিত যানবাহন। আইন মেনে চলা মোটরযানের তুলনায় এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল অনেক জায়গায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তারিকুল আলম সুমন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে গাড়ির আগেই রিকশা সিগন্যাল এলাকায় চলে যাচ্ছে বা নিয়ম ভঙ্গ করছে। এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এআই ব্যবস্থার পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও ড. হাদিউজ্জামান মনে করেন, শুধুমাত্র প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই হবে না; এর পাশাপাশি অনিবন্ধিত ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, ডিজিটাল সিগন্যাল ও এআই ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি অটোরিকশা ও অন্যান্য অবৈধ যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ গণপরিবহন নিয়েও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এআই ক্যামেরা চালুর পর থেকে ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করলেও রাজধানীর সড়কে স্থায়ী শৃঙ্খলা আনতে অবৈধ ও অনিবন্ধিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণকে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















