ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

আজ শেষ কর্মদিবস, সোমবার থেকে টানা ৭ দিনের ঈদ ছুটি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আজ রোববার (২৪ মে) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেষ কর্মদিবস। আগামীকাল সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হচ্ছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি, যা চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে এবার বিশেষ ব্যবস্থায় ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার। ফলে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টানা এক সপ্তাহের ছুটি উপভোগ করবেন চাকরিজীবীরা।

আগেই ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছয় দিনের ছুটির পরিকল্পনা ছিল। নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী ঈদের আগে ২৬ ও ২৭ মে এবং ঈদের পরে ২৯, ৩০ ও ৩১ মে নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে ২৮ মে ঈদের দিনের সাধারণ ছুটি যুক্ত হয়ে মোট ছয় দিনের ছুটি হওয়ার কথা ছিল। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ঈদযাত্রায় চাপ কমাতে গত ৭ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও একদিন ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মোট সাত দিন দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস বন্ধ থাকবে। তবে এই অতিরিক্ত ছুটির সমন্বয়ের জন্য ২৩ ও ২৪ মে, যা সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে বিবেচিত হতো, সেদিন অফিস খোলা রাখা হয়েছে। সেই হিসেবে আজ রোববার ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস পালন করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

তবে সব খাত এই ছুটির আওতায় থাকছে না। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর পরিচালনা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও ডাকসেবার মতো জরুরি পরিষেবাগুলো স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে। এসব খাতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনও ছুটির সুবিধা পাবেন না।

এছাড়া হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসা সেবা, অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহন এবং স্বাস্থ্যখাতের চিকিৎসক-কর্মচারীরাও এই ছুটির বাইরে থাকবেন। জরুরি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন অফিস ও সংস্থাও প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগামী ২৮ মে দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক যাত্রা। সরকার আশা করছে, টানা সাত দিনের ছুটির ফলে যাত্রীদের চাপ কয়েকদিনে ভাগ হয়ে যাবে এবং ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের প্রথম দিনেই সাভার ট্যানারিতে প্রবেশ করলো ২ লক্ষাধিক কাঁচা চামড়া

আজ শেষ কর্মদিবস, সোমবার থেকে টানা ৭ দিনের ঈদ ছুটি

আপডেট সময় : ১০:৪৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আজ রোববার (২৪ মে) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেষ কর্মদিবস। আগামীকাল সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হচ্ছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি, যা চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে এবার বিশেষ ব্যবস্থায় ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার। ফলে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টানা এক সপ্তাহের ছুটি উপভোগ করবেন চাকরিজীবীরা।

আগেই ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছয় দিনের ছুটির পরিকল্পনা ছিল। নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী ঈদের আগে ২৬ ও ২৭ মে এবং ঈদের পরে ২৯, ৩০ ও ৩১ মে নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে ২৮ মে ঈদের দিনের সাধারণ ছুটি যুক্ত হয়ে মোট ছয় দিনের ছুটি হওয়ার কথা ছিল। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ঈদযাত্রায় চাপ কমাতে গত ৭ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও একদিন ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মোট সাত দিন দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস বন্ধ থাকবে। তবে এই অতিরিক্ত ছুটির সমন্বয়ের জন্য ২৩ ও ২৪ মে, যা সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে বিবেচিত হতো, সেদিন অফিস খোলা রাখা হয়েছে। সেই হিসেবে আজ রোববার ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস পালন করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

তবে সব খাত এই ছুটির আওতায় থাকছে না। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর পরিচালনা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও ডাকসেবার মতো জরুরি পরিষেবাগুলো স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে। এসব খাতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনও ছুটির সুবিধা পাবেন না।

এছাড়া হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসা সেবা, অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহন এবং স্বাস্থ্যখাতের চিকিৎসক-কর্মচারীরাও এই ছুটির বাইরে থাকবেন। জরুরি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন অফিস ও সংস্থাও প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগামী ২৮ মে দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক যাত্রা। সরকার আশা করছে, টানা সাত দিনের ছুটির ফলে যাত্রীদের চাপ কয়েকদিনে ভাগ হয়ে যাবে এবং ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হবে।