ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

লোহিত নদী: রক্তিম পানির রহস্য ও পৌরাণিক উপাখ্যান

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের গহিন পাহাড়ি উপত্যকায় বয়ে চলা লোহিত নদীটি তার অদ্ভুত লালচে রঙের জন্য পরিচিত। ঋতুভেদে নদীর পানি ইটের মতো লাল বা কমলা বর্ণ ধারণ করে বলে স্থানীয়ভাবে এটি ‘রক্তের নদী’ নামে পরিচিত। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, লোহিত উপত্যকা ও মিশমি পাহাড়ের মাটি প্রচুর পরিমাণে লোহা সমৃদ্ধ। বৃষ্টির সময় পানির প্রবাহ বাড়লে মাটির সেই লোহা পানির সাথে মিশে এমন রঙ তৈরি করে। অন্যদিকে, পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, বিষ্ণুর অবতার পরশুরামের মাতৃহত্যার পাপ মোচনের পর তার মায়ের রক্তের কারণেই নদীর পানি লাল হয়েছিল বলে প্রচলিত রয়েছে।

জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই নদীটি পূর্ব তিব্বতের জায়াল ছু পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়ে অরুণাচল প্রদেশ হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে মিলিত হয়েছে। লোহিত নদীর তীরবর্তী অঞ্চলটি যেন এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা, যেখানে তিব্বতি প্রকৃতিপূজা, থেরবাদ বৌদ্ধ ধর্ম এবং সনাতন হিন্দু সংস্কৃতির সহাবস্থান দেখা যায়। পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান ‘পরশুরাম কুণ্ড’ এবং ইন্দো-চীন সীমান্তের প্রত্যন্ত গ্রাম ‘ওয়ালং’। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে হাজার হাজার পুণ্যার্থী এখানে পাপমুক্তির আশায় সমবেত হন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদ উদযাপনের মধ্যে মর্মান্তিক ঘটনা: গলায় মাংস আটকে কিশোরের মৃত্যু

লোহিত নদী: রক্তিম পানির রহস্য ও পৌরাণিক উপাখ্যান

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের গহিন পাহাড়ি উপত্যকায় বয়ে চলা লোহিত নদীটি তার অদ্ভুত লালচে রঙের জন্য পরিচিত। ঋতুভেদে নদীর পানি ইটের মতো লাল বা কমলা বর্ণ ধারণ করে বলে স্থানীয়ভাবে এটি ‘রক্তের নদী’ নামে পরিচিত। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, লোহিত উপত্যকা ও মিশমি পাহাড়ের মাটি প্রচুর পরিমাণে লোহা সমৃদ্ধ। বৃষ্টির সময় পানির প্রবাহ বাড়লে মাটির সেই লোহা পানির সাথে মিশে এমন রঙ তৈরি করে। অন্যদিকে, পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, বিষ্ণুর অবতার পরশুরামের মাতৃহত্যার পাপ মোচনের পর তার মায়ের রক্তের কারণেই নদীর পানি লাল হয়েছিল বলে প্রচলিত রয়েছে।

জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই নদীটি পূর্ব তিব্বতের জায়াল ছু পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়ে অরুণাচল প্রদেশ হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে মিলিত হয়েছে। লোহিত নদীর তীরবর্তী অঞ্চলটি যেন এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা, যেখানে তিব্বতি প্রকৃতিপূজা, থেরবাদ বৌদ্ধ ধর্ম এবং সনাতন হিন্দু সংস্কৃতির সহাবস্থান দেখা যায়। পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান ‘পরশুরাম কুণ্ড’ এবং ইন্দো-চীন সীমান্তের প্রত্যন্ত গ্রাম ‘ওয়ালং’। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে হাজার হাজার পুণ্যার্থী এখানে পাপমুক্তির আশায় সমবেত হন।