রাজধানীর পল্লবীতে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে রামিসা আক্তার নামের দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী। প্রতিবেশীর ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে তার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় রামিসার মা পারভিন বেগম শোকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন এবং বারবার বিলাপ করছেন, ‘আমার মেয়েটা কই? ও স্কুলে যাবে, ভাত খাবে। ও তো একা খেতে পারে না…’
পরিবারের সদস্যরা জানান, রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাইস্কুলের একজন মেধাবী ছাত্রী ছিল। সে পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিল এবং প্রায়শই স্কুলে সময়ের আগেই পৌঁছে যেত। ঘটনার দিন সকালেও সে স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। তার মা ভেবেছিলেন, সে হয়তো বড় বোনের সাথে চাচার বাসায় গেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর রামিসার চিৎকার শুনে খুঁজতে বের হলে পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে তার একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। বারবার দরজায় ধাক্কা দেওয়ার পরও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা এবং রামিসার বিভৎস মরদেহ উদ্ধার করেন।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, রামিসা শুধু পড়াশোনাতেই ভালো ছিল না, বরং প্রাণীদের প্রতিও তার ছিল গভীর ভালোবাসা। সে নিজে ঠিকমতো খেলেও পোষা বিড়ালটিকে নিজের হাতে খাওয়াত। ঘটনার পর থেকে বিড়ালটিও চুপচাপ হয়ে গেছে। রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন, কারণ তিনি মনে করেন প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় এর কোনো সমাধান নেই।
রিপোর্টারের নাম 



















