ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ওমানে চার ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু: ৭ দিন পর খবর জেনে মা হারালেন জ্ঞান, রাঙ্গুনিয়ায় শোকের ছায়া

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে একসঙ্গে চার ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর এক সপ্তাহ ধরে আড়াল করে রাখা হয়েছিল মা খাদিজা বেগমের কাছ থেকে। কফিনবন্দি মরদেহ বাড়িতে আনার পর যখন এই হৃদয়বিদারক খবর তাকে জানানো হয়, তখন তিনি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। গতকাল বুধবার সকালে কক্ষ থেকে বেরিয়ে ছেলেদের কফিন দেখে আহাজারি করতে করতে বারবার জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সকাল থেকে তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

গতকাল সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লালানগর বন্ধরাজপাড়ায় এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। গত ১৩ মে ওমানে গাড়ির ভেতর থেকে এই পাড়ারই বাসিন্দা চার সহোদর ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। গতকাল সকাল ৭টায় চারজনের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। খবর পেয়ে উপজেলার নানা প্রান্ত থেকে হাজারো নারী, পুরুষ ও শিশু বাড়ির সামনে জড়ো হন। শুধু রাঙ্গুনিয়া নয়, উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ আসে এই বাড়িতে। মানুষের কান্না আর স্বজনদের বিলাপে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসক কাজী মনসুর আহমেদ জানান, খাদিজা বেগমের কাছ থেকে গত এক সপ্তাহ ধরে যে সত্যটি আড়াল করে রাখা হয়েছিল, তা গতকাল আর চাপা থাকেনি। তিনি এখন শয্যাশায়ী। সকালে খবর শোনার পর থেকে তিনি কাঁদছেন আর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়ার লালানগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জানাজার জন্য। সেই শেষ যাত্রায় শামিল হয় কয়েক হাজার মানুষ। জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ভিড়ে বিদ্যালয়ের মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত জানাজা পড়ান খাদিজা বেগমের একমাত্র জীবিত সন্তান হাফেজ মোহাম্মদ এনাম। চার ভাইকে হারিয়ে বিপর্যস্ত এনাম জানাজা শেষে মোনাজাতে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রাঙ্গুনিয়ার মরিয়ম নগর থেকে জানাজায় অংশ নিতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এরকম ঘটনা রাঙ্গুনিয়ার মানুষ আর দেখেনি। চার ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো রাঙ্গুনিয়ার মানুষ শোকাহত। যারা নিহত হয়েছেন তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে ও জানাজায় অংশ নিতে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন।’

গত মঙ্গলবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজারে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ায় নিয়ে আসা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বকশীগঞ্জে ঘর থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ওমানে চার ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু: ৭ দিন পর খবর জেনে মা হারালেন জ্ঞান, রাঙ্গুনিয়ায় শোকের ছায়া

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে একসঙ্গে চার ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর এক সপ্তাহ ধরে আড়াল করে রাখা হয়েছিল মা খাদিজা বেগমের কাছ থেকে। কফিনবন্দি মরদেহ বাড়িতে আনার পর যখন এই হৃদয়বিদারক খবর তাকে জানানো হয়, তখন তিনি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। গতকাল বুধবার সকালে কক্ষ থেকে বেরিয়ে ছেলেদের কফিন দেখে আহাজারি করতে করতে বারবার জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সকাল থেকে তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

গতকাল সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লালানগর বন্ধরাজপাড়ায় এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। গত ১৩ মে ওমানে গাড়ির ভেতর থেকে এই পাড়ারই বাসিন্দা চার সহোদর ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। গতকাল সকাল ৭টায় চারজনের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। খবর পেয়ে উপজেলার নানা প্রান্ত থেকে হাজারো নারী, পুরুষ ও শিশু বাড়ির সামনে জড়ো হন। শুধু রাঙ্গুনিয়া নয়, উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ আসে এই বাড়িতে। মানুষের কান্না আর স্বজনদের বিলাপে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসক কাজী মনসুর আহমেদ জানান, খাদিজা বেগমের কাছ থেকে গত এক সপ্তাহ ধরে যে সত্যটি আড়াল করে রাখা হয়েছিল, তা গতকাল আর চাপা থাকেনি। তিনি এখন শয্যাশায়ী। সকালে খবর শোনার পর থেকে তিনি কাঁদছেন আর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়ার লালানগর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জানাজার জন্য। সেই শেষ যাত্রায় শামিল হয় কয়েক হাজার মানুষ। জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ভিড়ে বিদ্যালয়ের মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত জানাজা পড়ান খাদিজা বেগমের একমাত্র জীবিত সন্তান হাফেজ মোহাম্মদ এনাম। চার ভাইকে হারিয়ে বিপর্যস্ত এনাম জানাজা শেষে মোনাজাতে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রাঙ্গুনিয়ার মরিয়ম নগর থেকে জানাজায় অংশ নিতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এরকম ঘটনা রাঙ্গুনিয়ার মানুষ আর দেখেনি। চার ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো রাঙ্গুনিয়ার মানুষ শোকাহত। যারা নিহত হয়েছেন তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে ও জানাজায় অংশ নিতে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন।’

গত মঙ্গলবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজারে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ায় নিয়ে আসা হয়।