চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার ঘটনায় কোতয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় বাদী তার বাবা জামাল উদ্দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ করেছেন আদালত।
বুধবার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়। কারাগারে থাকা অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বাদীর আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, আসামি চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পক্ষে ষষ্ঠবারের মতো আজ সময় আবেদন করা হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলার শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য্য উপস্থিত সাক্ষীকে জেরা করার জন্য সময়ের আবেদনের একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়, নিয়োজিত আইনজীবী শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি, তাই জেরার জন্য সময় প্রার্থনা করা হচ্ছে। তবে আদালতে দরখাস্ত দাখিল করা হলেও নিয়োজিত আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে অন্য কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
একই সঙ্গে মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নিহত আলিফের বাবার সাক্ষ্য সমাপ্ত ঘোষণা করে পরবর্তী সাক্ষীর প্রতি সমন ইস্যুর আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৪ জুন।
এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি মামলায় চার্জ গঠনের পর ২ ফেব্রুয়ারি নিহত আইনজীবী আলিফের বাবা প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে জেরা কার্যক্রম সম্পন্ন না করে সময় আবেদন করে আসছে আসামিপক্ষ। এ নিয়ে মোট ছয়বার সময় আবেদন করা হয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, প্রায় ৮০ বছর বয়সী, অসুস্থ ও বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত নিহত আলিফের বাবা প্রতিটি ধার্য তারিখে লোহাগাড়া থেকে আদালতে উপস্থিত হচ্ছেন। কিন্তু বারবার সময় মঞ্জুর হওয়ায় তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ আদালতে আমাদের পক্ষ থেকে জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত যথার্থ বিবেচনায় বাদীর সাক্ষ্য সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন।’
মামলার শুনানিতে কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত হন। এ ছাড়া অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 



















