ঢাকা ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

লাশ রেখে মহাসড়কে বিক্ষোভ: অটো চালক হত্যায় বিচার দাবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোমিন (৪৫) নামে এক অটো রিকশাচালককে মারধরের দুদিন পর তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে সড়কে লাশ রেখে বিক্ষোভ করেছেন। তারা এ সময় ঘাতকের বিচার দাবি করেন।

বুধবার সকালে মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের দড়িকান্দি এলাকায় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। নিহত মোমিন সোনারগাঁয়ের সনমান্দি নাজিরপুর এলাকার মৃত হাকিম আলীর ছেলে এবং তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন। অভিযুক্ত শাহিন (৪৫) সোনারগাঁয়ের সনমান্দি দড়িকান্দি এলাকার মৃত নশ্বর মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে দুপুরে দড়িকান্দি স্ট্যান্ডে অটোরিকশার সিরিয়াল দেওয়াকে কেন্দ্র করে শাহিন মো. মোমিনকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে মোমিন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে রাজধানীর নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নেওয়া হলে আজ ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে মহাসড়কের দড়িকান্দি এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্বজনরা। এতে মহাসড়কের জাঙ্গাল থেকে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, মোমিনের কাছে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করেন লাইনম্যান শাহিন। টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ১৮ মে মোমিনের ভাই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে শাহিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ বলেন, ‘নিহতের স্বজনরা প্রায় ৩০ মিনিটের মতো মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। পরে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয় এবং মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পরে তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুড়িগ্রামের ৪০ পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ, জিও ব্যাগ বরাদ্দ নেই চরাঞ্চলের জন্য

লাশ রেখে মহাসড়কে বিক্ষোভ: অটো চালক হত্যায় বিচার দাবি

আপডেট সময় : ০৫:৪০:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোমিন (৪৫) নামে এক অটো রিকশাচালককে মারধরের দুদিন পর তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে সড়কে লাশ রেখে বিক্ষোভ করেছেন। তারা এ সময় ঘাতকের বিচার দাবি করেন।

বুধবার সকালে মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের দড়িকান্দি এলাকায় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। নিহত মোমিন সোনারগাঁয়ের সনমান্দি নাজিরপুর এলাকার মৃত হাকিম আলীর ছেলে এবং তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন। অভিযুক্ত শাহিন (৪৫) সোনারগাঁয়ের সনমান্দি দড়িকান্দি এলাকার মৃত নশ্বর মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে দুপুরে দড়িকান্দি স্ট্যান্ডে অটোরিকশার সিরিয়াল দেওয়াকে কেন্দ্র করে শাহিন মো. মোমিনকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে মোমিন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে রাজধানীর নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নেওয়া হলে আজ ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে মহাসড়কের দড়িকান্দি এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্বজনরা। এতে মহাসড়কের জাঙ্গাল থেকে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, মোমিনের কাছে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করেন লাইনম্যান শাহিন। টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ১৮ মে মোমিনের ভাই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে শাহিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ বলেন, ‘নিহতের স্বজনরা প্রায় ৩০ মিনিটের মতো মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। পরে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয় এবং মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পরে তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।’